ঢাকাMonday , 4 August 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুদকের ‘ফাঁদ মামলা’ শূন্যের কোঠায়

Link Copied!

ঘুষখোরদের হাতেনাতে ধরার বেশ কার্যকর একটি কৌশল হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ফাঁদ মামলা’। গত ৭ বছরের মধ্যে ফাঁদ মামলা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে ২০২৪ সালে। গত বছর এরকম একটি মামলাও করতে পারেনি সংস্থাটি। ২০২৪ সালে দুদকের এ-বিষয়ক অর্জন শূন্য। তবে গত এক বছরে ১ হাজার ৮৯৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে সংস্থাটি, যদিও উল্লিখিত সময়ে ১৫ হাজার ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। ১২ হাজার ৯৩৬টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়া হয়নি। দুদকের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দেশের সেবা প্রদানকারী অফিসগুলোতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংস্থা দুদক ঘুষখোরদের ধরতে পারছে না। দুদক ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ-অভিযান (স্টিং অপারেশনে) পরিচালনা করে থাকে। অদৃশ্য কারণে এখন এ ধরনের অভিযান বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালে একটি ফাঁদ মামলাও করতে পারেনি সংস্থাটি। তবে ওই সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের অভিযান চলেছে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সেবাপ্রার্থীর কাছে ঘুষ দাবি করলে কখনো সেবাপ্রার্থী বিষয়টি দুদককে অবহিত করেন। তখন দুদক ঘুষখোরকে হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু ২০২৪ সালে কেউ দুদকে অভিযোগ করেনি। তাই ফাঁদ মামলা করা যায়নি। অভিযোগ করলে তবেই তো ফাঁদ পাতার চেষ্ট করা হবে! দুদকে অভিযোগ না করে সেবাপ্রার্থী ঘুষ দিয়ে কাজ সারলে ফাঁদ মামলা করা যায় না। দুদকের জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট যথেষ্ট মাত্রায় না থাকায় ঘুষখোরদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সেবাপ্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে দুদক ঘুষখোরদের ধরতে আরও কঠোর হবে।’ তথ্যমতে, হাতেনাতে ঘুষখোরদের ধরার বেশ কার্যকর একটি কৌশল হচ্ছে ফাঁদ মামলা। অবশ্য ২০২৪ সালে একটি ফাঁদ মামলারও তদন্ত হয়নি। এর আগের বছর হয়েছিল ৩টি, ২০২২ সালে ৪টি, ২০২১ সালে ৬টি, ২০২০ সালে ১৮টি, ২০১৯ সালে ১৬টি ও ২০১৮ সালে ১৫টি। দুদকে কয়েকটি উৎস থেকে দুর্নীতির অভিযোগ আসে। ভুক্তভোগী বা যেকোনো ব্যক্তি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ও ৩৬ জেলা কার্যালয়ে সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন। ই-মেইল ও ডাকযোগে অভিযোগ পাঠানোর ব্যবস্থাও আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে দুদক অভিযোগের উৎস হিসেবে আমলে নেয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিবেদন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, আদালত থেকে পাঠানো পিটিশন কিংবা সিআর মামলা দুদকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসবের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদকের প্রকাশিতব্য বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুদকে ১৫ হাজার ৮৪২টি অভিযোগ জমা হয়েছে। এর মধ্যে জনসাধারণের কাছ থেকে ৯ হাজার ৫০৫টি, সরকারি দপ্তর থেকে ৭৯২টি, বেসরকারি দপ্তর থেকে ৩৯২টি, গণমাধ্যম থেকে ১ হাজার ১০৮টি, দুদকের জেলা কার্যালয় থেকে ১ হাজার ৫৮৪টি, এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে ৩৯৩টি এবং আদালত ও ইমেইলের মাধ্যমে ২ হাজার ৬১টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। ১ হাজার ১২টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১২ হাজার ৯৩৬টি অভিযোগ বাতিল হয়েছে। দুদকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুদকে গত পাঁচ বছরে ৮৩ হাজার ৮৯৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ৪ হাজার ৯৯৫টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ায় ১০ হাজার ৪৩৫টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৬৮ হাজার ৪৬৫টি অভিযোগ অবিবেচিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে দুদকে যে পরিমাণ অভিযোগ জমা হয়েছে, তার মাত্র ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ বাতিলের খাতায় গেছে। দুদক বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় এবং অধিকাংশ অভিযোগই দুদকের তফসিলবহির্ভূত হওয়ায় অনুসন্ধানের জন্য বিবেচিত হয় না। বেশিরভাগ অভিযোগ আসে মাদক, প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে। তুচ্ছ এবং ঢালাও অভিযোগও অনেক আসে। কমিশন যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ আমলে নেয়। অনুসন্ধানযোগ্য অভিযোগের সংখ্যা সে কারণে কম।