নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে টানা অবরোধ চালিয়ে আসা বিএনপির নিখোঁজ যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিনের সন্ধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। বিএনপি জোটের আন্দোলন শুরুর পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন সালাহ উদ্দিন। মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবীর রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর অজ্ঞাত স্থান থেকে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে সালাহ উদ্দিনই দলের কর্মসূচি জানাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকজন শিক্ষক হাসিনা আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ অভিযোগ করেন তিনি।
সালাহ উদ্দিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন এই শিক্ষকরা।
স্বামীর সন্ধান চেয়ে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানান হাসিনা আহমেদ। যে অবস্থায় সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে অবস্থায় তাকে আদালতে ও জনসম্মুখে হাজির করার দাবিও জানান তিনি।
সমবেদনা জানাতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবকে প্রোভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, ‘গত ৮ দিন হলো সালাহ উদ্দিন নিখোঁজ। অথচ এই বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা কেন কোনো কথা বলছেন না, কেনই বা তারা এখনো চুপ করে আছেন- এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’
সুশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকুমার বড়ুয়া, সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন, অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান।
১১ মার্চ রাত পৌনে ১১টার দিকে সালাহ উদ্দিনের পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালাহ উদ্দিন আহমেদকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল আটক করে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে তারা দাবি করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম থেকেই বলে আসছে, সালাহ উদ্দিনকে তারা আটক করেনি।
এরপরদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন হাসিনা আহমেদ। ওই রিটের শুনানি শেষে ১৫ মার্চের মধ্যে সালাহ উদ্দিনকে খুঁজে বের করে আদালতে কেন হাজির করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
১৫ মার্চ পুলিশের ৫টি শাখার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় সালাহ উদ্দিনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর সোমবার এ বিষয়ে শুনানি ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত।
সালাহ উদ্দিন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ১৪ মার্চ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আন্ডার গ্রাউন্ডে থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন, সবাই জানে তিনি ওখান (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) থেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। আমরা সালাহ উদ্দিনকে খুঁজছি। পুলিশ তাকে পেলেই গ্রেপ্তার করবে।’

