ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ১৯ বছর পর ১৯ মার্চ উৎসাহ-উদ্বেগ আর শো-ডাউনের মধ্যে দিয়ে শুক্রবার শুরু হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সরবে নড়েচড়ে উঠেছে থানা সদর থেকে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শহর জুড়ে ডিজিটাল বোর্ড-ব্যানার আর মোটর শোভাযাত্রায় প্রার্থীরা সরগরম রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নেতা হওয়ার শক্ত বিশ্বাসে এরই মধ্যে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদের প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানান দিয়ে চলছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক থাকলেও প্রার্থীদের মোটর শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন হাটবাজারে শোডাউনের কারণে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৯৭ সালে শৈলকুপা থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আবুল আহসান সিদ্দিক সভাপতি এবং শিকদার মোশারফ হোসেন সোনা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে আবুল আহসান সিদ্দিক মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন ১১নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ বাবর আলী বিশ্বাস। তিনি সভাপতি পদে আসিন হলেও দলীয় কার্যক্রমের সিংহভাগই চালিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা। বছরের পর বছর দফায় দফায় মিছিল-মিটিং মিডিয়া ফলোআপ এবং জেলা ও কেন্দ্র পর্যায়ে অভিযোগের কমতি নেই শৈলকুপা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে। প্রথম কমিটিভুক্ত ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক যুদ্ধে মারা গেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বয়সের ভারে একেবারেই ন্যুয়ে পড়েছেন।
অবশেষে বহু আকাঙ্ক্ষিত শৈলকুপা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন এখন দোরগোরায় পৌঁছেছে। শৈলকুপার প্রত্যন্ত এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন আর নতুন হিসাব নিকাশ।
৭নং হাকিমপুর ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামী রাজনীতিবিদ ও শিক্ষক আব্দুল আজিজ মাস্টার জানান, জেলা ও কেন্দ্র পর্যায়ের নানা জটিলতার কারণে অনেক দেরিতে হলেও ত্রি-বার্ষিক এ কাউন্সিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি। তিনি আশা করেন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নতুন একটি কমিটি হবে যা শৈলকুপা গণমানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে।
৫নং কাঁচেরকোল ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ঝন্টু বলেন, থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল তার জীবদ্দশায় দেখে যাবেন এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। হঠাৎ কাউন্সিলের খবরে শুনে খুব উচ্ছ্বসিত আওয়ামী লীগের এ বৃদ্ধ মানুষটি। সম্মেলনে এখন পর্যন্ত একক সভাপতি প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা, মতিয়ার রহমান, মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু ও থানা যুবলীগের সভাপতি রানাউজ্জামান বাদশার নাম শোনা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি প্রার্থী শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা নির্বিঘ্নে সময় কাটালেও ঘুমহীন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকা ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে এখন পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রিয়তায় থাকা চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু।
মোস্তফা আরিফ রেজার কর্মীরা মনে করেন এবারের কাউন্সিলে তিনি সম্পাদক পদে যোগ্য প্রার্থী। অনেকটা নাটকীয়ভাবে ১৩নং উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা এবং থানা যুবলীগ সভাপতি স ম রানাউজ্জামান বাদশা হঠাৎ করেই সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে শৈলকুপায় টক-অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে শৈলকুপা থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে মতিয়ার রহমান ও আরিফ রেজা মন্নুর নাম। তারা সম্পাদক পদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জোর লবিং-গ্রুপিং চালিয়ে আসছেন।
মজার ব্যাপার সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার শেষে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে একটি গ্রুপ গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশ্য ঘোষণা আশ্বাসে থাকলেও অন্যরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গোপন ভোটের মধ্যদিয়ে সুন্দর কাউন্সিল আশা করছেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ হাশেম খান জানান, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, কাউন্সিলকে ঘিরে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে।

