নিজস্ব প্রতিবেদক : আত্মগোপনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ খুঁজে পেলেই গ্রেপ্তার করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আন্ডার গ্রাউন্ডে থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন, সবাই জানে তিনি ওখান (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) থেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। আমরা সালাহ উদ্দিনকে খুঁজছি। পুলিশ তাকে পেলেই গ্রেপ্তার করবে।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন শুরুর পর ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবীর রিজভী আটক হলে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠাতে শুরু করেন সালাহ উদ্দিন। সাম্প্রতিক হরতালগুলোর ঘোষণা আসছিল তার স্বাক্ষরতি বিবৃতিতে। তবে প্রথম থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এরইমধ্যে বুধবার সন্ধ্যার দিকে বিএনপি ও সালাহ উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ বুধবার বলেছিলেন, ‘গতকাল রাত ১০টার দিকে সাদা পোশাকের কয়েকজন লোক উত্তরার বাসা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করে।’
তবে ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলে আসছে, তারা সালাহ উদ্দিনকে আটক করেনি। বুধবারই ডিএমপির মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ইফতেখার জানান, সালাহ উদ্দিনের আটকের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এছাড়া পুলিশ তাকে আটক করেনি বলেও তিনি জানান। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আটক করা হয়েছে কি না সে বিষয়টি আমি জানি না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ যদি তাকে আটক করে থাকে তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মুখপাত্র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই এ বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।
সালাহ উদ্দিনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজিরের নির্দেশনা চেয়ে বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করলে, রোববারের মধ্যে সালাহ উদ্দিনকে খুঁজে বের করে আদালতে কেন হাজির করার করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তা না হলে আদালতের রায় অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। আদালত সমন জারি করেছেন, কিন্তু তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন না। তার যদি আদালতের প্রতি এতটুকু বিশ্বাস থাকে তাহলে অবশ্যই তিনি আত্মসমর্পণ করতেন। অথচ তিনি আত্মসমর্পণ না করে অফিসে বসে আছেন। আইন মানবেন না, আদালত মানবেন না, কিছুই মানবেন না। তাহলে কীভাবে দেশের মানুষ আইন মানবে।’
বোমা মেরে মানুষ খুন, জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি-জামায়াত জোট জনসমর্থন পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেগম জিয়ার শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বোমা মেরে ছোট্ট শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, সাধারণ মানুষ খুন করছেন, কী বীভৎস ঘটনা। তার কোনো সমবেদনাও নেই, একটি কথাও নেই। ওনার নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, তাদের জন্য সমবেদনা জানান আর যারা এই জ্বালাও-পোড়াও করছে তাদের তিনি (খালেদা জিয়া) সাধুবাদ জানিয়েছেন। পরীক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষা দিতে না পারেন সেই ব্যবস্থাই করেছেন খালেদা জিয়া। ছেলে- মেয়েদের দিকে তিনি ফিরে তাকিয়ে দেখেননি।’
বিএনপি জোটের চলমান হরতালের কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন মহল থেকে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি বিএনপি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিচারপতি এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিন।

