প্রকৃতির সবুজ পাতা ছাপিয়ে সোনালি রঙের ফুলে সেজেছে সোনালু গাছ। প্রতিটি গাছের গা থেকে যেনো হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে। বাতাসে কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলতে থাকে এ ফুল। আকৃষ্ট করে পথচারীদের। হলুদ বরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রাখেছে চারপাশ। টাঙ্গাইলে এই ফুল সোনালু ফুল নামে বেশ পরিচিত। তবে অঞ্চলবেধে বিভিন্ন নামে এই ফুল পরিচিত। পরিচিত নামগুলো হলো- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম,ক্যাসিয়া ফিস্টুলা, ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার ট্রি। হাজার বছর আগেও এ গাছ আমাদের উপমহাদেশে ছিল। এ গাছের বৈশিষ্ট্য হলো ঝাড় লণ্ঠনের মতো দীর্ঘ মঞ্জরি এবং উজ্জ্বল হলুদ ফুল। এ গাছের আদি নিবাস হলো ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। এর ফুল, ফল ও পাতা বানরের খুব প্রিয়। সোনালু কাঠের রং ইটের মতো লাল। ঢেঁকি ও সাঁকো বানানোর কাজেও এ গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। তবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির অলঙ্কার এই সোনালু ফুল গাছ। সোনা ঝড়া এই সোনালু ফুলের সৌন্দর্য চোখে পরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায়। অযত্নে অবহেলায় নিরবে নিভৃতে নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিলিয়ে যাচ্ছে এই সোনালু ফুল। সম্প্রতি উপজেলার সাগরদীঘি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে দেখা যায় একটি সোনালু গাছের। দীঘির সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে এই সোনালু ফুল। পাশেই সাগরদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসা ঘাট থেকে অনেক শিক্ষার্থী সোনালু ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। শেষ বিকেলের পুকুরের পানিতে সোনালু ফুলের প্রতিবিম্ব সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে তুলেছে। এই ফুলের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে সাগরদীঘি দাখিল মাদ্রসার শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, অতি প্রাচীনকাল থেকেই সৌখিন ফুল প্রেমী মানুষের কাছে সোনালু একটি বিশেষ ফুল। সোনালু ফুলের সৌন্দর্য বলে শেষ করা যাবে না। এই ফুল থেকে যে ফল হয় তা বানরনরী নামে পরিচিত। এই ফলের বিশেষ ঔষধি গুণও রয়েছে। তবে এই গাছটি প্রকৃতি থেকে হারিছে যাচ্ছে। সোনালু ফুলের ছবি তোলতে আসা বিহঙ্গ আফরিন বলেন, যে কোনো ফুলই সৌন্দর্যের প্রতীক। বিশেষ করে সোনালু ফুলের হলুদ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভীষণ ভালো লাগে। মন আর প্রাণ জুড়িয়ে যায় এর সৌন্দর্যে। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু অন্যতম। তীব্র খরতাপে পথের পথিকের দৃষ্টি কাড়ছে এই ফুল। অনেকেই দাঁড়িয়ে এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। অনেকই আবার এ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে গাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন সোনালু ফুল। সোনালু ফুলের ঝলমলে রূপ দেখে মনে হয় কোন রূপসী কন্যা এইমাত্র হলুদের পিঁড়িতে বসেছে। পুরো গাছ থেকে হলুদ যেন বাতাসে মিশে উড়ে যাচ্ছে।

