ঢাকাThursday , 29 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে ১৪৪ ধারা জারি

Link Copied!

পঞ্চগড় প্রেসক্লাব ঘিরে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস এই আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়েছে পঞ্চগড় প্রেসক্লাব ও পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী থেকে জালাসী মোড় পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনসমাবেশ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাইক বাজানো, সভা ও মিছিল পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি সেবা প্রদাণকারী সংস্থা যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, ঔষধ সরবরাহকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর প্রযোজ্য হবে না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এই আদেশ পড়ে শোনান এবং প্রেসক্লাবের ভবন ও প্রধান ফটক সিলগালা করে দেয়া হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর জুবায়ের হোসেন সিয়াম, পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামানসহ পুলিশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, আগস্ট বিপ্লবের পরে প্রেসক্লাবের বহিরাগত কিছু সাংবাদিক প্রেসক্লাব দখল করে নেয়। সিংহভাগ পেশাদার সাংবাদিকদের নানাভাবে হেয় ও মব সৃষ্টি করে হয়রানি করা হয়। এতে দুইপক্ষের মধ্যে সংকট চরম আকার ধারণ করে। সাংবাদিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলতে থাকে। বুধবার রাতে প্রেসক্লাবের নব্য দখলদার পক্ষ প্রেসক্লাবের সামনে মহাসড়কে এবং প্রেসক্লাবের প্রকৃত সদস্য, পেশাদার ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বিভিন্ন দাবিতে করতোয়া সেতুর সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় সড়কের দুইপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের দুটি পক্ষই প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি দেয় এবং অবস্থান নেয়। চলতে থাকে বাক বিতন্ডা। দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌছালে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হন। প্রেসক্লাব এলাকায় মোতায়েন করা হয় বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সদস্য ও সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পূর্বে আমরা প্রেস ক্লাবের সদস্য নিতে কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু আগস্ট বিপ্লবের কারণে কিছুটা দেরি হয়। পরে প্রেস ক্লাবের সদস্য নয় এমন সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাব দখলে নিয়ে আমাদের বিতাড়িত করে। এনিয়ে দীর্ঘ সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা কাউকে তোয়াক্কা করেনি। পরে প্রেস ক্লাবের সংকট সমাধানে উপদেষ্টা পরিষদ বুধবার সন্ধ্যায় ক্লাবে তালা দিয়ে উভয় পক্ষকে যেতে বাধাঁ দেন। শীঘ্রই সমাধানের আশ্বাসও দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে বহিরাগত সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবের তালা ভেঙ্গে ভেতরে গেলে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা দুপুরে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করেন। পরে যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। উপদেষ্টা পরিষদ সংকট সমাধানে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটা আমরা মেনে নেবো। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ এর সাংবাদিক সরকার হায়দার বলেন, প্রেস ক্লাবে আমাদের আহ্বায়ক কমিটি করে দেয়া হয়। সেই মোতাবেক আমরা কাজ করছি। কিন্তু এরই মাঝে আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়। তবে আমাদের লিখিত কিছু জানানো হয়নি। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পঞ্চগড় প্রেসক্লাব ও তার আশপাশের এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আইন কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে, গত ২১ আগস্ট পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সদস্য হতে আগ্রহী কিছু সাংবাদিক প্রেসক্লাব দখলে নেয়। এ সময় তারা নাগরিক টিভির পঞ্চগড় প্রতিনিধি সাইদুজ্জামান রেজাকে সভাপতি এবং বিজয় টিভির পঞ্চগড় প্রতিনিধি ইনসান সাগরেদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। পরে সংকট নিরসনে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতারদের মধ্যস্থতায় দুটি পক্ষকে নিয়ে গত ২৫ আগস্ট পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রেসক্লাবের আগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোরের পঞ্চগড় প্রতিনিধি সরকার হায়দারকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় আহ্বায়ক কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে দ্বায়িত্ব দেওয়ার ৪ মাস পার হলেও আহ্বায়ক কমিটি কোন কার্যক্রম দেখাতে না পারায় গত ২ জানুয়ারি রাতে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আদম সুফির বাসায় এক সভায় মৌখিকভাবে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে উপদেষ্টা কমিটি সকল দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপরও বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির ব্যনারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।