ঢাকাMonday , 26 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রপ্তানি হচ্ছে চীন ও অস্ট্রেলিয়ায়
কেশবপুরে কাঁকড়া চাষ করে সজীবের বাজিমাত

Link Copied!

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষনদের পাশে ঘেরর পানিতে কাঁকড়া চাষ করে বাজিমাত করে দিয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা সজীব । তার ঘেরের কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানে। ঘেরের পাড়ে দাঁড়িয়ে পানিতে তাকালেই চোখে পড়ে ভাসমান হাজারো প্লাস্টিকের ছোট- ছোট বাক্স। যার মধ্যে বড় হচ্ছে রপ্তানি যোগ্য ওই সব কাঁকড়া। ঘেরের মাঝামাঝি অবস্থান বাঁশ আর দিয়ে বানানো হয়েছে টিনের ছাউনি দেওয়া একাধিক টং ঘর। এখান থেকে দেখভাল করা হয় চাষের যত কাঁকড়া। সজীবের এ খামারের পালিত কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশে।
কেবল শখের বশে চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হতে চাষাবাদ শুরু করেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন সজীব। সজীব শুরুতে চিংড়ি মাছ চাষে সফলতার ধারাবাহিকতায় শুরু করেছেন কাঁকড়া চাষ। এর মাধ্যমে তিনি যেমন সাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি তার কাঁকড়ার ঘেরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এলাকার ২২ জন যুবকের। কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির সামনের কপোতাক্ষ নদের ধারেই সজীবের কাঁকড়ার ঘের। এ ঘেরে দেশে বিদ্যমান ১৭ গ্রেডের কাঁকড়ার মধ্যে মাত্র দুটি গ্রেডের চাষাবাদ করেন তিনি। যা সংগ্রহ করা হয় সুন্দরবন সংলগ্ন নদী থেকে। এরপর ২৫ দিনের পরিচর্যা শেষে তা রপ্তানি করা হয়। প্রায় ৭৩ হাজার বাক্সে কাঁকড়ার চাষ করছেন তিনি। তার চাষ করা কাঁকড়া যাচ্ছে দেশের পাঁচ তারকা হোটেলসহ অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশে। সজীবের ৯ বিঘার ঘেরের পানিতে ৭৩ হাজার বাক্সে চাষ হচ্ছে হার্ড সেল কাঁকড়া। আর এসব হার্ড সেল কাঁকড়া থেকে উৎপাদিত হচ্ছে সফট সেল কাঁকড়া। এসব কাঁকড়াকে খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২ মণ তেলাপিয়া মাছ কেটে খাওয়ানো হয়। কাঁকড়ার ঘেরের ম্যানেজার কার্তিক গাইন ও সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, প্রতিদিন দুপুরবেলায় কাঁকড়া বহন করা ফ্রিজিং গাড়ি চলে আসে ঘেরপাড়ে। ক্রেতারা ঘের থেকে বাছাই করা গ্রেডিং কাঁকড়া ঐ ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি কাঁকড়া গ্রেড অনুযায়ী ১০০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে এ কাঁকড়া শুধু পাঁচ তারকা হোটেলে বিক্রি ও বিদেশে রপ্তানি করা হয়। স্থানীয় খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় না। ঘের থেকে প্রতিদিন যেমন কাঁকড়া বিক্রি হচ্ছে তেমনিভাবে প্রতিদিন স্থানীয় কপোতাক্ষ নদীর ও সুন্দরবনের নদী থেকে ধরা বিভিন্ন গ্রেডের কাঁকড়া এনে ঘেরে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ আল মামুন সজীব বলেন, তাদের উৎপাদিত কাঁকড়ার বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে। তার কাঁকড়া চাষ দেখে এখন অনেকেই কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যেমন কাঁকড়া চাষের প্রসার ঘটবে, তেমনি কর্মহীন শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হবে এ কাঁকড়া ঘেরের মাধ্যমে। কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, কাঁকড়া চাষ একটি লাভজনক প্রকল্প, মাছ চাষের চেয়ে কাঁকড়া চাষে বেশি মোনাফা লাভ করা যায়। তবে এ ধরনের প্রকল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার তেমন কোন সুযোগ না থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে ।