ঢাকাSunday , 25 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নদীর পাতা কুড়িয়ে চলে ওদের জীবন

Link Copied!

‘বাজান, ছবি তুলতেছো কেন? এই ছাড়া যে আমাগো কোনো রাস্তা নি’। ‘বনে গিলি ফরেস্টাররা ধরে মামলা দেয়, আইলা’র পর থেকে গোটা এলাকা যেন বিরান ভূমি। একটু জ্বালানীর জন্যি তাই আমরা পানিতে ভেসে আসা পাতা কুড়াচ্ছি’। কথাগুলো শেষ হতেই ‘গলুইঠেলা’ (পাতা কুড়ানোর কাজে বাঁশ ও জাল দিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি বস্তু বিশেষ) হাতে নিয়ে আবারও পানিতে নেমে পড়েন হিরা বেগম। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী চার সন্তানের জননী এ নারী পানির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে আরও বলেন, ‘আমাগা কোন আয়নি, এলাকায় এটা বড় লোকের বাড়ি নি, টাউন বন্দর নি, আমারা খাবো কি, চলবো কেমবায় (কিভাবে)। জোয়ারে ভেসে আসা কুড়ানো পাতা দে চুলতেছে (চলছে) আমাগা জীবন’।‘খুব কষ্ট ভাই জ্বালানীর-উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন জানায়, কুড়ানো পাতা মূলত তারা জ্বালানির কাজে ব্যবহার করে। আবার অসংখ্য মানুষ নদীতে ভেসে আসা এসব পাতা কুড়িয়ে নিয়ে শুকিয়ে বিক্রি করে সংসারের খরচ যোগাচ্ছে। পশ্চিম কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুলের দাবি এলাকায় কাজকর্ম নেই। বাধ্য হয়ে হাঙর ও কামোটের ভয়ডর উপেক্ষা করে দিনরাত নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে তারা। রফিকুল আরও বলেন, ‘একার আয়ে বৃদ্ধ মা-বাপসহ সাত মুখের যোগান দিতি হয়। মাঝেমধ্যে চাল-ডালির ব্যবস্থা হলিও জ্বালানি জোটে না। তাই প্রতিদিন নদীতে জোয়ার শুরু হলি গলুইঠেলা নিয়ে নদীতে আমাগো নামতি হয়’। জোয়ারের পানিতে ভসে আসা পাতা কুড়াচ্ছেন পশ্চিম কৈখালীর কয়েক নারী-পুরুষ। জোয়ারের পানিতে ভসে আসা পাতা কুড়াচ্ছেন পশ্চিম কৈখালীর কয়েক নারী-পুরুষ। তবে শুধুমাত্র হিরা বেগম আর রফিকুল ইসলাম না। বরং জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা পাতা কুড়িয়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সংসার চালানো পরিবারের সংখ্যা অসংখ্য। কৈখালী থেকে শুরু করে মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালীনি হয়ে গাবুরা পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এ জনপদের হাজারও পরিবারের অন্যতম পেশায় পরিণত হয়েছে পানিতে ভেসে আসা সুন্দরবনের পাতা কুড়ানো। পাতা কুড়ানোর কাজে জড়িতরা জানায় পাতার সাথে সুন্দরবনের নানান প্রজাতির গাছের ফুল ও ফল থাকে। যে কারণে বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন কাজ করতে হয় তাদের। তবে সমগ্র এলাকাজুড়ে জ্বালানি সংকটে প্রকট হওয়ার দরুন তারা এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছেন। খলিশাবুনিয়া গ্রামের রাশিদুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। এলাকায় চিংড়িঘের থাকায় কাজকর্ম নেই। বাধ্য হয়ে স্ত্রীসহ নিজে নদীতে মাছের রেণু ধরে সংসার চালাতেন। তবে জুন মাসের শুরু থেকে নদীতে নামা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন জোয়ারে ভেসে আসা পাতা কুড়িয়ে নিয়ে গৃহস্থদের কাছে বিক্রি করছেন। জোয়ারের পানিতে ভসে আসা পাতা কুড়াচ্ছেন পশ্চিম কৈখালীর কয়েক নারী-পুরুষ। জোয়ারের পানিতে ভসে আসা পাতা কুড়াচ্ছেন পশ্চিম কৈখালীর কয়েক নারী-পুরুষ। প্রায় অভিন্ন দাবি মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী গ্রামের রেনুকা মণ্ডলসহ আরও অনেকের। সুন্দরবন তীরবর্তী অংশে বসবাসরত এসব গ্রামবাসী জানায় আইলার পর থেকে প্রায় গাছ-গাছালি শূন্য হওয়ায় এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট। মাঝেমধ্যে জেলেরা মাছ-কাঁকড়া ধরার সুযোগে সুন্দরবন থেকে কিছু জ্বালানি সংগ্রহ করে। ধনী পরিবারগুলো শহরাঞ্চল কিংবা বরিশাল এলাকা থেকে নৌ-পথে আসা জ্বালানি ক্রয় করে প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। তবে, উপকুলপাড়ে বসবাসরত হাজারও পরিবারের অন্যতম প্রধান জ্বালানি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা সুন্দরবনের পাতা, ফুল ও ফল। তবে এসব উপকুলবাসীর ভয় পাতা সংগ্রহের কাজ বন্ধ হলে জীবন চালানো তাদের আরও কঠিন হয়ে যাবে। ক্রয় ক্ষমতা না থাকার পাশাপাশি তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে পড়ে রীতিমত বাস্তচ্যুত হওয়ার মত পরিস্থিতির শঙ্কায় তারা। নদীতে ভেসে আসা পাতা নির্বিঘ্নে সংগ্রহে প্রশাসনিক অনুমতির দাবি তাদের। এসব বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনের পাতা ফুল ও ফল সাধারণত সেখান প্রাণী ও মাছদের খাদ্য। তাছাড়া অনেক সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে সেগুলো বিভিন্ন চরে যেয়ে প্রাকৃতিকভাবে বনভূমির সৃষ্টি করে। জ্বালানির জন্য অবশ্যই উপকুলবাসীকে বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তা করতে হবে।