ঢাকাSunday , 18 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিষ্টি আঙ্গুর চাষে সফল ঝিনাইদহের কৃষক

Link Copied!

বাংলাদেশেও যে সুস্বাদু ও মিষ্টি আঙ্গুর চাষ করে সফলতা পাওয়া যায় তারই প্রমাণ দিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাইদুর্গাপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আরিফুল ইসলাম। আঙ্গুর গাছ লাগিয়ে ফলনও ভালো পেয়েছেন তিনি। সুস্বাদু আর ফলন ভালো হওয়ায় আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও। পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুরের চাষ করেছেন কৃষক আরিফুল। তার উৎপাদিত আঙ্গুর স্বাদ ও গুণেও ভালো। প্রতিদিনই তার আঙ্গুরের বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা। দেখতে আসা মানুষদের তিনি বাগান থেকে আঙ্গুর তুলে খাওয়াচ্ছেন। দর্শনার্থীরা বলছেন, মিষ্টি এবং সুস্বাদু এই আঙ্গুর। বাজার থেকে কেনা আঙ্গুরের থেকে কোন অংশে কম নয় বরঞ্চ কোনো কোনোটা আরও বেশি মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়েছে। বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা রসালো আঙ্গুর। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা সুস্বাদু এই রসালো আঙ্গুর ফলের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক আরিফুল। আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পরীক্ষামুলক ১০টি সবুজ জাতের চারা রোপন করেন তিনি। সফলতা পেয়ে ২০২৪ সালে বানিজ্যিকভাবে ১৭ শতক জমিতে আঙ্গুর চাষ শুরু করছেন। অনলাইনের মাধ্যমে ভারত ও চীন থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রায় ১’শ গাছ লাগিয়েছেন। তার বাগানে একুলো, বাইকুনুর, ব্লাক ম্যাজিক, ভেলেজ সিলভাসহ কয়েক জাতের আঙ্গুর গাছ রয়েছে। চারা রোপনের ৮ মাসের মধ্যে পেয়েছেন ফলন। দৃষ্টিনন্দন আর সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিনিয়ত আঙ্গুর বাগান দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। তার এই সফলতা দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার অনেক কৃষক। বাগান দেখতে আসা মিলন হোসেন, আলমঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, এভাবে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় কখনো আঙ্গুর দেখিনি। আঙ্গুরগুলো অনেক মিষ্টি। প্রতিটি ঝোপায় ২০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত আঙ্গুর আছে। আরিফুলের মতো অন্যরা এ রকম আঙ্গুর চাষ করলে দাম এত বেশি হতো না। আগে ভাবতাম আঙ্গুর চাষে অনেক কষ্ট ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এখন দেখি কষ্ট ও খরচ দুটাই কম। এমনকি আঙ্গুর চাষ লাভজনক। আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও আঙ্গুর চাষ করবো। যার জন্য চাষযোগ্য জমি নিদ্ধারণসহ চারার খোঁজ করছি। কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে মিষ্টি আঙ্গুর উৎপাদন হলে বাইরের দেশ থেকে আঙ্গুর আনা লাগবে না। দেশে উৎপাদিত আঙ্গুর দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করে লাভবান হওয়া যাবে। চলতি মৌসুমে প্রতি গাছে ১০ থেকে ১৫ কেজি হারে ফলন পাবো বলে আশা করছি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-এ-নবী জানান, সদর উপজেলার বেতাইদুর্গাপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আরিফুল ইসলাম আঙ্গুর গাছ লাগিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। আর সদর উপজেলার মাটিতে আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব। সুস্বাদু আর ফলন ভালো হওয়ায় আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও। কৃষক আরিফুলকে আমরাদের পক্ষ থেকে পরামর্শসহ নানা ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, কৃষক আরিফুলের বাগানে প্রচুর পরিমাণে আঙ্গুর ধরেছে। এ জেলার মাটিতে আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব। সুস্বাদু আর ফলন ভালো হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও আঙ্গুর আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার উৎপাদিত আঙ্গুর স্বাদ ও গুণেও ভালো। প্রতিদিনই তার আঙ্গুরের বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আঙ্গুর উৎপাদনে জৈব বালাইনাশক পরামর্শসহ নানা ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেই সাথে অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।