যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের একটি বক্তৃতা মঞ্চে লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাত করে এক চোখ অন্ধ করে দেওয়া নিউ জার্সির ২৭ বছর বয়সী হাদি মাতারকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৬ মে) এই সাজা ঘোষণা করা হয়। এই বছরের শুরুতে হাদি মাতারকে হত্যার চেষ্টা এবং হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এ সংশ্লিষ্ট মামলায় এটিই সর্বোচ্চ সাজার রেকর্ড। নিউ জার্সির বাসিন্দা হাদির আইনজীবীরা বলেছেন, তারা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। ২০২২ সালের আগস্টে সালমান মঞ্চে দর্শকদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন, যখন তাঁর মুখ এবং ঘাড়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এই আক্রমণে তার এক চোখ অন্ধ হয়ে যায় তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার বাহুতে স্নায়ু ক্ষতির কারণে একটি হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। ৭৭ বছর বয়সী রুশদি হাদি মাতারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। লেখক বলেছিলেন, ‘সে আমাকে বারবার আঘাত করছিল। আঘাত করছিল এবং আঘাত করছিল।’ রুশদি একজন ব্রিটিশ-আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ভারতে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বইগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার উপন্যাস ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ বুকার পুরস্কার অর্জন করেছে। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তার চতুর্থ উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের জন্ম দেয়, বিশেষ করে মুসলিমদের প্রতি নিন্দাজনক বলে বিবেচিত অংশগুলোর জন্য। ১৯৮৯ সালে ইরানের আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ডের আহ্বান জানিয়ে একটি ফতোয়া জারি করেছিলেন। এই ঘোষণার ফলে রুশদি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্রিটিশ সরকার তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান করে। উপন্যাসটি প্রকাশের সাথে সাথে মারাত্মক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং রুশদির ঘনিষ্ঠ বইয়ের দোকানগুলো সহিংস আক্রমণের সম্মুখীন হয়।

