বাশার আল আসাদের পতনের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়া আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাতের পর তার ব্যাপক প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ একসময় এই শারাকে গ্রেপ্তারের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। বুধবার (১৪ মে) সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারা’র সঙ্গে সৌদি আরবে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। এসময় ট্রাম্প বলেন, ‘আজ (বুধবার) সকালে সৌদি আরবে সংক্ষিপ্ত বৈঠকটি দুর্দান্ত হয়েছে। এই সিরিয়ান (আল-শারা) তরুণ একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তি। শক্ত লোক। শক্তিশালী অতীত রয়েছে, খুব শক্তিশালী অতীত। তিনি একজন যোদ্ধা।’ট্রাম্প আরও বলেন, এটা (নেতৃত্ব) ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার সত্যিকার দক্ষতা আছে। আমি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে কথা বলেছি, যার সাথে তার (আল-শারার) খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। তিনি (এরদোয়ান) মনে করেন যে তার (শারা’র) ভালো কাজ করার সুযোগ আছে। এটি (সিরিয়া) একটি বিধ্বস্ত দেশ। ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সিরিয়া একসময় আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে বলেও মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের নিজেদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমি তাকে বলেছি যে, আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে তোমরাও যোগ দেবে (আব্রাহাম চুক্তিতে)।’‘সে বলল, হ্যাঁ। কিন্তু তাদের অনেক কাজ বাকি,’ যোগ করেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন আহমেদ আল–শারা। তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)–এর হাতেই আসাদ সরকারের পতন হয়। বিবিসি বলছে, আল-শারা একসময় সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর কমান্ডার ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি গোষ্ঠীটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএস-কে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং আল-শারাকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করে। পরে আল-শারা সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্র সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।

