ঢাকাTuesday , 10 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন
দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে পিরোজপুর গোপালগঞ্জ বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প

Link Copied!

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে খননকৃত খালের একাংশ

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে খননকৃত সেচ নালার একাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলার কৃষি ও কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে পিরোজপুর গোপালগঞ্জ বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে এই তিন জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে কৃষিখাতে নিরব বিপ্লব ঘটেছে বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ড্যাম), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ২১ উপজেলায় যৌথভাবে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি জুন ২০১৭ সালে শেষ হবে। প্রকল্পের বিএডিসি অঙ্গের অনুকূলে ১৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পভুক্ত তিন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের বিএডিসি অঙ্গের তত্ত্বাবধানে খাস ও মজা খাল পুনঃখনন, বারিড পাইপ সেচ নালা নির্মাণ, হোস পাইপ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ খরচ হ্রাসকরণ, বিভিন্ন আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ, বীজ সংরক্ষণ ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় কৃষি ও কৃষকের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রকল্পভুক্ত ৩ জেলায় ৩শ’ কিলোমিটার খাস ও মজা খাল পুনঃখনন করে ২২ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য কৃষি জমি সেচের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২.৩৩১ কিলোমিটার খাস ও মজা খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮৮ কিলোমিটার খাস ও মজা খাল পুনঃখননের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানা গেছে।
এ ছাড়া বারিড পাইপ সেচ নালা নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় অধিক খাদ্যশস্য উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এ প্রকল্পটি। এ জন্যে বিভিন্ন ধরণের ৪৯০টি শক্তিচালিত পাম্প (এলএলপি) স্থাপনের মাধ্যমে ২৮০ কিলোমিটার বারিড পাইপ সেচ নালা নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ৬ কিলোমিটার বারিড পাইপ সেচ নালা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৬ কিলোমিটার বারিড পাইপ সেচ নালা নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পভুক্ত তিন জেলায় হোস পাইপ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ খরচ হ্রাসকরণেও কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় ১০ হাজার মিটার হোস পাইপ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৬ হাজার মিটার হোস পাইপ ক্রয় করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে অবশিষ্ট ৪ হাজার মিটার হোস পাইপ ক্রয় করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের সেচযন্ত্রে ব্যবহারের জন্য ট্রান্সফরমার ও এক্সেসরিজসহ ১৮০টি বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ করা হবে। চলতি অর্থ বছরে ১০টি বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন

প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন

প্রকল্পভুক্ত এলাকায় বড়, মাঝারি ও ছোট মানের বিভিন্ন ধরণের ১১৫টি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪টি মাঝারি ও ৩১টি ছোট হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৩টি বড় আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার (সাব-মার্জড ওয়্যার/রেগুলেটর), ৬টি মাঝারি আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার (বক্স কালভার্ট/ফুম/ফুট ব্রিজ) এবং ২৮টি ছোট আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার (ফুট ব্রিজ/পাইপ কালভার্ট/ক্যাটল ক্রসিং) নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা অর্জনে প্রকল্প এলাকায় দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ২শ’ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন বীজ সংরক্ষণ ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে প্রকল্পটির মাধ্যমে। পাশাপাশি পুরাতন ভবন ও গুদাম মেরামত, সংস্কার ও আধুনিকীকরণেও বিভিন্ন কার্যত্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে খুলনার শিরোমনিস্থ সেচ কমপ্লেক্সে অফিস ভবন এবং পরিদর্শন বাংলো মেরামত, সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে উল্লেখিত প্রকল্পটির মাধ্যমে।
এ ছাড়া সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজনের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারি ও কৃষকদের বাস্তবভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে প্রকল্পটির মাধ্যমে।
কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএডিসি অঙ্গের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, দক্ষিণের এই তিন জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় কৃষকরা সুফল ভোগ করছে বলে জানান তিনি।