জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একটি সরকারি পুকুর থেকে মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ১১ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পুনট পূর্ব পাড়া গ্রামের পুকুরের ঝোপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুকুরটির মাছ লুট করা হয়। থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পুনট এলাকার নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ‘সরিষাগাড়ী’ নামের এই সরকারি পুকুরটি ৩ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। নাসির উদ্দিন কালাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান ও পুনট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস ফকিরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। গত সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরপাড়ে এসে জড়ো হন। তাদের অধিকাংশই বিএনপি সমর্থিত লোকজন। তারা ওই পুকুরে নেমে মাছ লুট করতে শুরু করেন। মনোয়ার হোসেনও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। মাছ লুটের পর দুপুরের দিকে লোকজন চলে যান। তবে মনোয়ার হোসেন ‘বড় মাছ ধরার অপেক্ষায়’ পুকুরেই ছিলেন। সন্ধ্যা নেমে এলেও মনোয়ার বাড়িতে ফিরছিলেন না। তখন তার মা মঞ্জুয়ারা বেগম মনোয়ারকে ডাকতে পুকুরে আসেন। পুকুরের ঝোপের মধ্যে ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে লোকজনকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। মনোয়ারের কপালে কাটা দাগ ছিল এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিতে চাইলে গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দেন। পরিবার ও গ্রামবাসীর তোপের মুখে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। রাতেই এরপর দ্রুত দাফন করা হয়। নিহতের মা বলেন, মনোয়ারকে কেউ মারেননি। পুকুরে বড় মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছেন তিনি। ‘জিন-ভূতে মনোয়ারকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছে’ বলে তাঁর মায়ের দাবি৷

