
দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে সূর্যমূখী ক্ষেতের একাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দশমিনায় দেশের বৃহত্তম বীজ বর্ধন খামারে চলতি রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের প্রায় ৩৪০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌসুমের শুরুতে খামারের ৩৫৫ একর জমিতে গম, ছোলা, মসুর, খেসারি, আলু, সূর্যমুখী, চিনা, সরগম ও কাউনের বীজ বপন করা হয়। আবাদকৃত এসব ফসলের মধ্যে আলুর হাম পুলিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যান্য ফসলও কর্তন পর্যায়ে রয়েছে বলে খামার সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া চলতি খরিফ-১ মৌসুমে ৪০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খামারের ১৩০ একর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি রবি মৌসুমে খামারের ৩৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ একর জমিতে ব্রি ধান-২৮ আবাদ করা হয়েছে যা থেকে ১৯৮ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩২ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৪০ একর জমিতে বারি গম ২৫ ও ২৬ আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ একর জমিতে বারি ছোলা-৫ আবাদ করা হয়েছে যা থেকে ৮ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বারি-৩ ও বিনা-৫ জাতের মসুরের ৫ মেট্রিক টন করে মোট ১০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০ একর জমি আবাদ করা হয়েছে।
এদিকে, খামারে কার্ডিনাল জাতের আলুর হাম পুলিং (আলু বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চাষকৃত আলু ক্ষেত থেকে উত্তোলনের পূর্বে মাটির উপরের অংশ কর্তন) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। শীঘ্রই এ আলু উত্তোলনের পর বীজ উৎপাদনের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। এ জাতের ৯০ মেট্রিক টন আলু বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে খামারের ১০ একর জমি আবাদ করা হয়েছিলো। খামার সূত্র জানিয়েছে, এ জাতের আলুর উৎপাদন অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ১০০ একর জমিতে স্থানীয় জাতের খেসারি আবাদ করা হয়েছে যা থেকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১০ একর জমিতে বারি সূর্যমুখী-২ আবাদ করা হয়েছে। ১.৮০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩ একর জমিতে চিনা আবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ একর করে জমিতে সরগম ও কাউন আবাদ করা হয়েছে যা থেকে এ দু’টি ফসলের যথাক্রমে ৭শ’ ৫০ কেজি ও ২শ’ ৫০ কেজি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
খরিফ-১ মৌসুমে ৪০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা : এদিকে, সদ্য শুরু হওয়া খরিফ-১ মৌসুমে খামারের ১৩০ একর জমিতে বারি-৬ জাতের মুগডাল, বিনা-২ জাতের তিল ও স্থানীয় জাতের ফেলন আবাদ করা হয়েছে। বীজ ও অবীজ মিলিয়ে সর্বমোট ৪০.৭০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এ মৌসুমে। বারি-৬ জাতের মুগডাল আবাদ করা হয়েছে ১০০ একর জমিতে যা থেকে ৩ মেট্রিক টন মুগডাল ও ৩০ মেট্রিক টন মুগডালের বীজ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনা-২ জাতের তিল আবাদ করা হয়েছে ১০ একর জমিতে যা থেকে তিল পাওয়া যাবে ২০০ কেজি ও এর বীজ পাওয়া যাবে ২ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ২০ একর জমিতে স্থানীয় জাতের ফেলন আবাদ করা হয়েছে যা থেকে বীজ ও অবীজ মিলিয়ে ৫.৫০ মেট্রিক টন ফসল উপাদনের আশা করা হচ্ছে।
খামারের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘চলতি রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। ইতোমধ্যে কিছু ফসল কর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ফসলের ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং র্নিধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাও সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

