গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার আভেযাগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে মনোয়ারা বেগম শ্রীপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মনোয়ারা বেগম উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কুড়লপাড়া (পূর্ব পাড়া) গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার মেয়ে। আহতরা তার ভাই এবং ভাতিজা। গত ১৬ মার্চ (রবিবার) রাত ৮ টায় তাদের বাড়ীতে প্রবশে করে হামলা ওমাধরের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কুড়লপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে জলিল, খলিল মিয়ার ছেলে স্থানীয় ধলাধিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবর্ণ এবং সিয়াম। তারা প্রত্যেকে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের আব্দুস সাহিদের ছেলে আলম, আলমের ছেলে হৃদয়, সাগর, নাঈম, শহিদুল এবং তুলি। মনোয়ারা বেগম জানান, অভিযুক্তরা বেশ কিছুদিন যাবশ অজ্ঞাত লোকজন নিয়া আমাদের বাড়ীর দক্ষিণ পাশে আকাশমনি বাগানে আসিয়া বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনসহ ক্রয় বিক্রয় করে। তাদের মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করায় গত ১৬ মার্চ (রবিবার) রাত ৮ টার দিকে তারা বাড়ীতে প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় আমার ছোট ভাই জলিল প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্রসহ অভিযুক্তদের সাথে থাকা অজ্ঞাত ৪/৫ জন লোক হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভাই জলিল, ভাতিজা সুবর্ণ এবং সিয়ামকে দা, লোহার রড দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। অভিযুক্ত নাঈম আমার ভাতিজা সুবর্ণের গলায় দুই হাতে চেপে দিয়া ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। তাাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রকাশ্যে হত্যা করে লাশশুম করার হুমকি দেয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাছ। অভিযুক্ত আলমের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক বলেন, ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ওসির সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তরা ওই গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাদের নামে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে বলে জানান তিনি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, মাদকের বিষয়ে সবসময় পুলিশ জিরো টলারেন্স। ঘটনার সত্যতা থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

