ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনাসহ কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তা এবং কিছু রাজনৈতিক শক্তির মদদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত বুধবার (১২ মার্চ ) দিনের বেলায় বড় মাঠের পাশে প্রকাশ্যে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। একই দিনে শহরের আমতলী মোড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দু’টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যা রোজাদারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদ মিছিল: ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শহরের চৌরাস্তা প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঘটানো হচ্ছে, যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও নারীদের উত্ত্যক্ত করা। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও কিশোর গ্যাং ও তাদের মদদদাতাদের কারণে অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং যৌথভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। রাজধানীতে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায়ও গ্রহণ করা উচিত, যাতে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠন, এনজিও এবং কমিউনিটি নেতাদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা যেতে পারে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করতে বিশেষ সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে করে কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সর্বোপরি, কিশোর গ্যাং ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাজের সর্বস্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঠাকুরগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

