ঢাকাWednesday , 12 March 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশু উদ্ধার

Link Copied!

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে চুরি যাওয়া শিশুটিকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বর্তমানে শিশুটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। শিশুটির বাবা শিমুল ও মা হাসি বেগম জানান, তাদের দুই মাস বয়সী সন্তান সায়ান শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল। রবিবার তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশুটির নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতাও একত্রিত হয়ে শিশুটির সন্ধানের দাবিতে আন্দোলনে নামে। উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আশ্বাস দেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরদের অবস্থান শনাক্ত করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে আটক করে। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান জানান, শিশুটি চুরি হওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোরদের অবস্থান নিশ্চিত করে। আটক নারীর পরিচয় তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তার সঙ্গে শিশু চুরির একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শিশু মুসা চুরি হয়েছিল। ১১ দিন পর পুলিশ শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও থেকে উদ্ধার করেছিল। সে সময়ও এক নারীকে আটক করা হয়েছিল। দুই ঘটনায় মিল থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, শিশু চুরির একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশদ্বারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিশুটি উদ্ধারের খবরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে তারা দাবি করেছেন, শিশু চুরির গ্যাংকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে বলে জানানো হয়েছে, তবে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।