ঢাকাMonday , 10 March 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ের গরীবের ডাক্তার মহসিন আলী আর নেই

Link Copied!

ঠাকুরগাঁওয়ের গরীব মানুষের পরম বন্ধু, সেবক ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মহসিন আলী আর আমাদের মাঝে নেই। রোববার (৯ মার্চ) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহসিন আলী ছিলেন পেশায় একজন ওয়ার্ড বয়, কিন্তু তার কাজ ছিল মানুষের সেবা করা ও গরীব দুঃখী মানুষকে দান করা । তিনি ছিলেন গরীব মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। অর্থের অভাবে যারা ডাক্তার দেখাতে পারতেন না, হাসপাতালে যেতে ভয় পেতেন, তাদের জন্য মহসিন আলী ছিলেন ভরসার নাম। তার হাতে করা হাড়জোড়ার প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ, খৎনা, ইনজেকশন, স্যালাইন ও ড্রেসিং পেয়েছে লক্ষ্য লক্ষ্য গরীব মানুষ।মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন এই মানুষটি।বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় যখন অনেক চিকিৎসক শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তখন মহসিন আলী আর নজু মিলে অসীম সাহস ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজেদের জীবনের পরোয়া না করেই বাসায় বাসায় গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিয়েছেন, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছেন, ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন। তার এই অবদান কখনো ভোলার নয়। মহসিন আলীর মৃত্যুতে গরীব ও অসহায় মানুষরা এক অভিভাবক হারালো। যারা নামমাত্র বা বিনামূল্যে তার কাছ থেকে চিকিৎসা পেতেন, তারা এখন দিশেহারা। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি অলিগলি, হাসপাতালের করিডোরে, পথচারীদের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন “মহসিন ভাই নেই, এখন আমরা কোথায় যাব?” মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার পরিবার শোকস্তব্ধ, এলাকাবাসীও গভীরভাবে শোকাহত। তার জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছে, যারা একসঙ্গে কেঁদেছে এই নিঃস্বার্থ মানুষটির জন্য।মহসিন আলী ডাক্তার ছিলেন না, ছিলেন হাসপাতালের একজন অবসরপ্রাপ্ত ওয়ার্ড বয়। কিন্তু তিনি যা করেছেন, তা অনেক ডাক্তারও করতে পারেননি। তার সেবা, তার আত্মত্যাগ, তার ভালোবাসা ঠাকুরগাঁওবাসীর হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের আস্থার স্বীকৃত ডাক্তার। হয়তো সরকারি স্বীকৃতি তিনি পাননি, কিন্তু মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার। মহসিন আলী ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন গরীবের হৃদয়ে, ভালোবাসায়, দোয়ায়।