মাদারীপুরে স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দের জেরে ২ ভাইসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ২ জন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পরেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়োন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলো আজিবর সরদারের ছেলে সাইফুল সরদার। বিগত সরকারের সময় সাইফুলের ছিল এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব। এই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সাইফুল। স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও পাত্তা দিতোনা। বৈধ অবৈধ সকল ব্যবসা ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এতে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অনেকেই ক্ষুব্দ ছিল সাইফুলের উপর। সরকার পতনের পরও সকল ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে সাইফুল। এতে প্রধান বাধা হয়ে দাড়ায় একই এলাকার শাজাহান মোল্লা ও চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা। সাইফুল গ্রুপ ও শাজাহান খান, চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা গ্রুপের সাথে মাঝে মাঝেই এলাকায় উত্তেজনকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এছাড়া কিছুদিন আগেও ড্রেজারের পাইপ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোয়াজপুর সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সামনে একা পেয়ে সাইফুলের উপর হামলা চালায় শাজাহানের লোকজন। এ খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে সাইফুলের বড়ভাই আতাউর ও চাচাতো ভাই অলিল ও প্রতিবেশিরা এগিয়ে। সেসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে সাইফুল ও তার বড় ভাই আতাউর সরদার পাশের মসজিদে ঢুকে পরে। প্রতিপক্ষের লোকজন মসজিদে ঢুকে দুই ভাইকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সেসময় দুই ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে সাইফুলের চাচাতো ভাই অলিল সরদার, প্রতিবেশী মুজাম সরদারের ছেলে পলাশ সরদার, আজিজুল হকের ছেলে তাজেল সরদারও প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়। এরপর হামলাকারীরা আতাউর ও সাইফুলের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় অলিল, পলাশ ও তাজেলকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করে। কর্তব্যরত ডাক্তার ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আতাউল ও সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করে। এছাড়া ঢাকা নেয়ার পথে পলাশ সরদার মারা গেছে বলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। এ ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা (সদর সার্কেল) বলেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পাশাপাশি সেনাবাহিনীও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরাধীরা শিগগিরই ধরা পড়বে।

