কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা শহরে রাতের আঁধারে ঘর তুলে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ পরিবার ন্যায় বিচার চেয়ে আদালতে দুটি মামলাসহ থানায় অভিযোগ করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার সূত্রে জানা যায়‚ নাগেশ্বরী পৌর শহরের চামটারপার (বুদ্ধিরমোড়) গ্রামের ভবেন চন্দ্র বর্মনের নামে ৬৮ শতক জমি ১৯৮৬ সালে রেকর্ড হয়। অভিযোগ রয়েছে মানিক উদ্দিন সিএস রেকর্ডের মালিক থাকাকালীন মজু ব্যবসায়ীর শশুর শমসের আলী, মানিক উদ্দিন গংদের সমস্ত সম্পত্তি বর্গা করতেন। পরবর্তীতে রেকর্ড কালে শমসের আলী কৌশলে তার নিজ নামে সম্পত্তিগুলো রেকর্ড করেন। অতঃপর ১৯৭৭ মানিক উদ্দিন ভূমিদস্যু শমসের আলীর বিরুদ্ধে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করে ১৯৮০ সালে রায় পান এবং মানিক উদ্দিন গংদের নামে এসএ রেকর্ড পুনঃসৃজন হয়। উক্ত জমি ভবেন চন্দ্র বর্মন ক্রয়ের পর থেকে বিনা-কাগজে জমি দাবি করে আসছেন সনাতনীপাড়া গ্রামের মজনু ব্যাপারি, শমসের আলী এবং গত ২০ নভেম্বর ২০২৪ সালে দিবাগত রাতে ভূমিদস্যুরা জমি জোরপূর্বক দখল করে টিন দিয়ে একচালা একটি ঘর নির্মাণ এবং সুপারীর গাছ রোপণ করে। আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন‚ দুই পক্ষের জমির কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় এই জমি প্রকৃত মালিক ভবেন চন্দ্র বর্মন। আদালতে মামলা চলছে এবং আদালতের সিন্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। স্থানীয় হযরত আলী‚ সফি মিয়া‚ শাহাজাহান‚ খতিব রহমান‚ জব্বার আলী ও নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন‚ ভবেন চন্দ্র বর্মন অনেক কষ্টের পর মানিক উদ্দিনের কাছে জমিটি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু সঠিক মতো জমিটি দখল করতে পারেন না। মজনু ব্যাপারিরা অনেক দিন থেকে তাদের উপর নির্যাতন করে আসছে। বিভিন্ন মাধ্যমেও সমাধান করেও কোন সমাধান মিলছে না। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক ভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। ভবেন চন্দ্র বর্মন জানান‚ ১৯৮৬ সালে মানিক উদ্দিন‚ রিয়াজ উদ্দিন‚ ইয়াকুব আলীর কাছে জমি ক্রয় করে নেওয়ার পর থেকে দখল ভোগ করে আসছে। জোরপূর্বক মজনু ব্যাপারী জমি দখল করে নেয় এবং শালিসও অমান্য করে। মজু ব্যাপারী বিচার না মেনে ৪ শতক জমি অথবা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। অভিযুক্ত মজনু ব্যাপারীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন‚ জমির মালিক ভবেন চন্দ্র বর্মন ঠিক আছে। জোর-যার মুল্লুক তার বলে ফোন কেটে দেন।

