সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে হরিণ শিকারের জন্য ফাঁদ পেতে অপেক্ষা করছিল একদল চোরা শিকারি। নিকটবর্তী খালের পাশে নোঙর করা একটি ট্রলারে ছিল তাদের আস্তানা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ৫ শিকারিকে। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী এলাকার ছালুয়ার খালে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অভিযান চালিয়ে বন রক্ষীরা আটক করেন ৫ চোরা শিকারিকে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারও জব্দ করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বন বিভাগের সদস্যরা গহীন বনে গিয়ে নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করেন। যৌথ এই অভিযানে অংশ নেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন ও চরখালী টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা। আটককৃত চোরা শিকারিরা হলেন মিন্টু বিশ্বাস, বাদল বিশ্বাস, বিধান চন্দ্র, সুমন্ত ও মন্টু। তাদের সবার বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকায়। বগী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) আব্দুস ছবুর জানান, আটককৃত চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরা শিকারিরা বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের গভীরে গিয়ে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। পরে সেগুলো জবাই করে মাংস পাচার করা হয়। আমরা সবসময় এসব চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপর আছি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সফলভাবে শিকারিদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বন বিভাগ। সুন্দরবন হলো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি শুধুমাত্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল নয়, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তাই সুন্দরবনে চোরা শিকার রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও চোরা শিকার বন্ধে বন বিভাগের এমন অভিযানের প্রশংসা করেছে। তারা দাবি করেছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে শিকারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করতে হবে। বন বিভাগ আরও জানায়, হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যা বন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

