‘তরুণদের দেশ গড়ার অঙ্গীকার জনসেবায় স্থানীয় সরকার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার পালের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ফিরে শেষ হয়। পরে বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ সচিব) বিশ্বজিৎ কুমার পাল। জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষ্যে এ সময় বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ, গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এহসানুল হক, গোপালগঞ্জ জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়েজ আহমেদ, গোপালগঞ্জ পৌরসভার সচিব এএইচএম রকিবুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস। যা সাধারণত স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব, কার্যক্রম ও অবদানের প্রতি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি বিভিন্ন সময়ে পালিত হয়, তবে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রায় একই থাকে। স্থানীয় সরকার দিবসের লক্ষ্য, সুশাসন নিশ্চিতকরণ স্থানীয় সরকারকে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। জনসেবার উন্নতি-জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারকে আরো কার্যকর ও দক্ষ করে তোলা। স্থানীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো পানি ও পয়োনিস্কাশন, কৃষি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে উৎসাহিত করা। জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি-জনগণকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, যাতে তাদের চাহিদা ও মতামত কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। স্থানীয় সরকার দিবসের উদ্দেশ্য, স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি-জনগণকে বোঝানো যে একটি কার্যকর স্থানীয় সরকার কাঠামোই টেকশই উন্নয়নের ভিত্তি। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সহায়তার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ- প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা জোরদার করা। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা-নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি নেতৃত্বের মানোন্নয়ন এবং জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা। এ সময় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার শাখা) প্রবীর বিশ্বাস, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান, পৌর প্রশাসকের একান্ত সহকারী মাহফুজুর রহমান লাবলু, জেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রকিবুল কবীর, হীরেন চন্দ্র হাওলাদার, সুব্রত মজুমদার, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএফএম হাসিবুল চৌধুরীসহ জেলায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

