বিএনপি নেতা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট জেলা সদরের দেপাড়া বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় বাজারের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে। তবে তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের নাম ও পরিচয় জানাতে পরেনি পুলিশ। জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ১১ ফেব্রুয়ারি দেপাড়া বাজারে এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা শওকাত হোসেন এবং তার ভাই ঐ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী লিয়াকত হোসেনসহ ১৫ -২০ জন গুরুতর আহত হয়। আহত বিএনপি নেতা শওকত হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পরে খুলনা হাসপাতাল এবং সর্বশেষ রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মৃত্যুবরণ করেন। খবর পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দেপাড়া বাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং আফজাল ও জাকিরসহ অন্যান্যের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বাজারের বিভিন্ন গলি থেকে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। বন্ধ হয়ে যায় বাজারের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শওকত হোসেন কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি গ্রামের ইমান উদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার আরেক ভাই যুবদল নেতা শেখ মহাতাব উদ্দিন গত বছর বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ করেন। বিএনপি নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বিএনপি নেতা শওকত হোসেনের ভাই লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আফজাল হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা করে আমাদেরকে আহত করেন। হামলার ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আফজাল হাওলাদারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই মারা গেল। আমি এর সঠিক বিচার চাই’। কচুয়া থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। কচুয়া, বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আফজাল গ্রুপের সদস্য হায়দার আলীকে তার বাড়ী থেকে আটক করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ আরও দুইজনকে আটক করেছে।

