নিজস্ব প্রতিবেদক : ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ব্যক্তি খালেদা জিয়া। সব নেতার মুখেই তার সমালোচনা। বিভিন্ন নামে ও বিশেষণে তাকে অভিহিত করেছেন অনেকে। এই সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
প্রত্যেক নেতা ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের প্রধান বিষয় হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া এবং তার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন। কেউ ‘পাকসখী’, কেউ ‘জঙ্গি নেত্রী’, কেউ ‘সন্ত্রাসের রানী’, কেউ ‘আগুন সন্ত্রাসের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করেন তাকে।
বলতে গেলে ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের সমাবেশটি খালেদাময় হয়ে উঠেছিল।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু বলেন, ‘জঙ্গিদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আজকে দেশকে অকার্যকর করা ষড়যন্ত্র চলছে। যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা এদেশের জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। এবারও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’
বিএনপির চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসের রানী আখ্যায়িত করে আরেক উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, ‘তেল এবং জল এক হয় না। তেমনি মানুষের সঙ্গে বিএনপির মতো সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে কোনো ডায়লগ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সজিব ওয়াজেদ জয়কে গুম করতে গিয়ে ধরা খাইয়া গেছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার ছেলে তারেক রহমান। ৫ বছরের জেলও হইছে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘সন্ত্রাসের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলার মাটিতে উচিৎ শিক্ষা দেয়া হবে। এ মাঠিতে তার জায়গা হবে না।’
আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘পাকসখী খালেদা জিয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। তার এক ছেলে হিরোইন খেয়ে মারা গেছে। আরেক ছেলে ফেরারি আসামি হয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। খালেদা জিয়া আপনার কি লজ্জা হয় না। ফেরারি আসামির মা হয়ে বড় বড় কথা বলতে।’
সবশেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হয়েছে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই। এদেশের মাটিতেই তার বিচার হবে। জঙ্গিবাদ আমরা মেনে নেবো না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সকলকে রুখে দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে শাস্তি পেতেই হবেই। জঙ্গি নেত্রীর বিচার হবেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অফিসের মধ্যে বসে মানুষ হত্যা করবেন। আমারা সহ্য করবো না।’
তিনি বলেন, ‘যারা এদের সমর্থন দেবেন তারাও সমান অপরাধী। বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেবো না। খালেদার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হয়েছে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই। এদেশের মাটিতেই তার বিচার হবে। জঙ্গিবাদ আমরা মেনে নেবো না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সকলকে রুখে দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে শাস্তি পেতেই হবেই। জঙ্গি নেত্রীর বিচার হবেই হবে।’

