ঢাকাTuesday , 19 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের কোথাও একটা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

Link Copied!

ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে, থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণকে নিয়ে আমাদের যে লক্ষ্য, সেই ৩১ দফার প্রত্যেকটি কথা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক ঢাকা বিভাগ কর্মশালা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা নিয়ে ঢাকা বিভাগের প্রত্যেকটি মহানগর, জেলা, উপজেলা মুল দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কর্মশালায় অংশ নেন। বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির নেতারা দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন। এ সময় রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রশিক্ষকরা। এর আগে সকালে কর্মশালা উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তখন জনগণ জবাব চাইতে শুরু করবে। জনপ্রতিনিধিরা জানবে যে তাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। সেটি ভোটের জন্য হোক কিংবা জবাবদিহিতার জন্য হোক। দয়া করে আমার নামের সঙ্গে কেউ দেশনায়ক বা রাষ্ট্রনায়ক জাতীয় শব্দ ব্যবহার করবেন না- এমন আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, অনেকেই অনেক সংস্কারের কথা বলছেন। অথচ দেশ ও জাতি নিয়ে বিএনপি দুই বছর আগে ২৭ দফা নিয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে। এখন ৩১ দফাকে মাঠে নিয়ে যেতে হবে। শুধু ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দফায় উল্লেখ থাকা বিষয়গুলো প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। বিএনপির মূল দলের নেতৃত্বে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিলে ভাগে ভাগে গ্রাম থেকে ইউনিয়নে ছোট ছোট উঠান বৈঠকের প্রস্তুতিও নিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, আমরা যদি দল ও নেতাকর্মীদেরকে ঐক্য বজায় রাখতে পারি, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী চলতে পারি তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করবে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের ওপর। অতীতে যেভাবে আমরা ১৯ দফার আলোকে দেশ পরিচালনা করেছি, এবার এর সঙ্গে আরও কিছু ধারা যোগ করে ৩১ দফা দিয়েছি। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা দেশে পরিচালনা করতে চাই। প্রথমে ছিল ২৭ দফা, পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যেসব দল আমাদের সঙ্গে শরিক ছিলেন তাদের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ দফা হয়েছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশে যতগুলো দল আছে তাদের সম্মিলিত চিন্তার ফসলই হচ্ছে ৩১ দফা। তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের এক নেতার বক্তব্যের উদ্ধৃত করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয়, তাহলে যে সংস্কারই করি না কেন কোনটি কাজে লাগবে না। রাজনৈতিক মুক্তি হচ্ছে জনগণের কাছে জবাবদিহি। যার যা ইচ্ছা করে যাবে, সেটি হবে না। সরকারি দল, বিরোধী দল, এমপি, মন্ত্রী যেই হোক, জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে। আর এটি নিশ্চিত করতে হলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভোটের মাধ্যমেই জবাবদিহিতা তৈরি হবে। যার জন্য আমাদের হাজারো সহকর্মী গুম, খুন হয়েছে। আমরা যুদ্ধ করেছি ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কাজেই যে কোনো মূল্যে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি রুগ্ন হলে অর্থনীতি রুগ্ন হয়। রাজনীতি ও অর্থনীতি রুগ্ন হলে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সব ব্যবস্থাই রুগ্ন হবে। মানুষ কোনো সুফল পাবে না। কাজেই প্রথম কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, জবাবদিহিতাকে প্রতিষ্ঠিত করা। স্বৈরাচারের সময়ে দেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না, যার কারণে মানুষ গুম-খুন হয়েছে, নিশি রাতে ভোট হয়েছে, ডামি নির্বাচন হয়েছে। জবাবদিহিতা ছিল না বলেই প্রশাসনে ও বিচার বিভাগে অবস্থা অবনতি হয়েছে, দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসব কিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হলে অবশ্যই জবাবদিহিতাকে আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেটি সম্ভব সঠিক ভোট প্রয়োগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দেশ সবার, প্রত্যেকের অবস্থান থেকে একটু একটু এগিয়ে আসি। প্রত্যেকে যদি চেষ্টা করি তাহলে ভালো কিছু করতে সক্ষম হবো। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দু’বারের বেশি হতে পারবেন না, তবে সংসদ সদস্যের মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়টি জনগণের ওপর নির্ভরশীল। যদি জনগণ কাউকে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে, তাহলে তিনি বারবার সংসদ সদস্য হতে পারবেন। না হলে তা সম্ভব হবে না। উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আজকে আমরা দেখছি, যারা বিখ্যাত লোক, বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, যারা সংস্কারের কথা বলেছেন তাদের অনেককে বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে দেখি নাই। বিগত বছরগুলোতে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশ, এসবি, ডিবির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে এক লক্ষ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, ৬০ লাখ আসামি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ধান ক্ষেত দিয়ে পালিয়ে যেতে হতো তাদের কথা ভাবুন। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের বিপ্লবের মূল সত্য, এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তির নয়। এই গৌরবের অধিকারী দেশের প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এই গণতন্ত্রের জন্যই ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল। তারা পাকিস্তানকে তাড়িয়েছে, এবার বাকশালকে তাড়িয়েছে। এই তরুণ সমাজকে জিজ্ঞেস করুন- যারা বিপ্লব এনেছে তারা কি ভোটার হয়ে একবারও ভোট দিতে পেরেছে? পারে নাই। তাই ভোটের অধিকার ১২ কোটি ভোটারের মাঝে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে কর্মশালা সঞ্চালনা করছেন বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব এবিএম মোশাররফ হোসেন। ৩১ দফা নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটি আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, রাশেদা বেগম হীরা, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।