পর্যটন নগরী কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১৮ ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলীর ইউনি রিসোর্ট থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পুলিশের মতে, আওয়ামীপন্থী ইউপি সদস্যরা গোপনে বৈঠক করছেন এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অপরদিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন পূর্ব নির্ধারিত একটি কর্মশালা থেকে যাচাই-বাছাই করে আওয়ামীপন্থী হিসেবে তাদের আটক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ শহরের কলাতলী এলাকার আবাসিক হোটেল ইউনি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে এই ইউপি সদস্যদের আটক করে। অভিযানকালে চিহৃিত অনেকে পালিয়ে গেলেও প্রায় অর্ধশত সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বসিয়ে রাখা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে জানা গেছে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফয়জুল আজীম নোমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল বাইসস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুনের। এছাড়া আতাউল্লাহ খান নামে এক রাজনৈতিক ব্যক্তির উপস্থিতির কথা তাদের লিফলেটে লেখা ছিল।কলাতলীর ইউনি রিসোর্টে পার্বত্য এলাকা এবং কক্সবাজারের দু’শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা সভা করছেন খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দারা ঘিরে রাখেন। ৩ ঘণ্টা যাচাই-বাছাই করে সন্দেহজনক ১৮ জনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটকদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের মোহাম্মদ মিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জহির আহমেদ। তারা ২ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। আটককৃতরা বলেন, জেলার ৯টি উপজেলার ইউপি সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় পুলিশ ও অর্ধ-শতাধিক সমন্বয়ক তাদের হল রুম ঘেরাও করেন। এরপর পুলিশ ও সমন্বয়ক পরিচয়ধারীরা এসে তল্লাশি যাচাই-বাছাই শুরু করেন। কক্সবাজার সদর থানার ওসি বলেন, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ইউপি সদস্যরা গোপন বৈঠক করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অনেক ইউপি সদস্য ছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাদের আটক করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, পুলিশের কাছে খবর পৌঁছে ওই আলোচনা সভার নামে আওয়ামী লীগের দোসর ইউপি সদস্যরা হোটেল ইউনি রিসোর্টে জড়ো হয়ে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। এমন খবর পেয়েই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া ঈদগাঁও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির হোসেন জানান, আমাদের মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা সভা ছিল। সেখানে সব রাজনৈতিক দলের মানুষও ছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৮ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজিম নোমান।

