কক্সবাজারের টেকনাফে সংঘবদ্ধ একটি চক্র চোরাইভাবে সাগরপথে পাচারকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় ৪জন মানব পাচারকারীর সক্রিয় সদস্য আটক হলেও আরো ৭জনকে পলাতক আসামী করা হয়েছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার একটি আভিযানিক দল টেকনাফ সদর ইউপির লম্বরী পর্যটন বাজার হতে ৫শ গজ দূরে জনৈক ফয়সালে লিজকৃত জায়গা সুপারি বাগানের ভিতর সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা জোর পূর্বক কিছু নারী ও শিশুদেরকে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ লম্বরীর মো. কাশেমের ছেলে নুরুল আমিন, কেফায়েত উল্লাহর ছেলে নুরুল আফসার, হ্নীলা জাদিমোড়ার আবু তাহেরের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন ,নোয়াখালী হাতিয়া থানার জাহাজ মারা গ্রামের রফিক সরকারের ছেলে মো. আল আমিনকে আটক করা হয়। এদিকে ঘটনাস্থল হতে ৩ জন রোহিঙ্গা নারী, ৯জন রোহিঙ্গা শিশুসহ মোট ১২জনকে উদ্ধার করে পুলিশ নিরাপদ হেফাজতে। উদ্ধারকর্মীরা হলেন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং তারা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে আসছে। উল্লেখিত ভিকটিমদের আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা ও পরিবেশগত অসহায়ত্বকে পুঁজি করে উন্নত জীবন-যাপন, অধিক বেতনে চাকুরী ও অবিবাহিত নারীদেরকে বিবাহের মিথ্যা প্রলোভনে প্রতারণা পূর্বক ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়া যৌন নিপীড়ন,প্রতারণামূলক বিবাহ ও জবরদস্তিমূলক শ্রমসেবা আদায়ের অভিপ্রায়ে ৩/৪দিন যাবৎ ধাপে ধাপে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত ভিকটিমদের ঘটনাস্থলে এনে চোরাইভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য জোরপূর্বক ভাবে আটক রাখে। এই বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, ধৃত আসামী এবং পলাতক হলেন লেঙ্গুরবিলের হাজী আমির আহমদের ছেলে ফয়সাল , জনৈক আজিমুল্লাহ , জনৈক ইসমাইল , মো. আইয়ুবের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার, ছেলে মোঃ ইউনুস ও মোঃ রফিক, দক্ষিণ লম্বরীর হাফেজ আহমদের ছেলে সাইফুল্লাহ সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন পলাতক আসামীদের সংঘবদ্ধ মানব-পাচার চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত পরস্পর যোগসাজশে বাঙ্গালি ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের নিয়ে মানব পাচারের অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ধৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

