পিরোজপুরের পাড়েরহাটে বিএফডিসির মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের অবতরন ও বিপনন কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেছেন বিএফডিসির (বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশান) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান। সোমবার (৪ নভেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাছ বেচা-কেনার মাধ্যমে অবতরন ও বিপনন কার্যক্রম উদ্ভোধন করেন তিনি। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএফডিসি’র পরিচালক (উপ সচিব) অদ্বৈত চন্দ্র দাস, যুগ্ম সচিব শাহ মোমেন, স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের ইনচার্য লেঃ কর্ণেল আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হোসেন খান, পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান নাসিম ও মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা আকন। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়ায় ২ একর ৩৬ শতাংশ জমির উপর ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যায়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এই অবতরন কেন্দ্রটি নির্মান করে। ২০২১ সালে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের জন্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মান কাজ শেষ হয়। এটি চালু হওয়ায় সরকারের অন্তত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করছেন এই খাতের-সংশ্লিষ্টরা। এখানে নির্মান করা হয়েছে উন্নতমানের ১০ হাজার বর্গফুটের অকশন সেড, ৪০ জন আড়ৎদারের ব্যবহার উপযোগি দ্বিতল আড়ৎঘর, আইস প্লেন্ট, আবাসিক ভবন, অফিস ভবন, পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, মাছ প্যাকেজিং করার জন্য প্যাকেজিং সেট, জেনারেটর কক্ষ, ইন্সপেকশন রুম, স্যানিটেশন ও পয়োনিস্কাশনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর বিগত সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেছিলেন। কিন্তু শুরুতেই বিএফডিসি সুফলভুগীদের মধ্যে মতদ্বৈধতা ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা থাকায় এতদিন এর কার্যক্রম শুরু করা যায় নাই। পাড়েরহাট মৎসজীবি সমাজ কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আকন বলেন, অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় মৎস্য ট্রলার মালিক, জেলে, আড়তদার, পাইকারসহ সবাই এক জায়গায় মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ পাবে’। পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক বলেন, পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্ধোধনের মধ্যদিয়ে সরকারের সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপের কারণে ইলিশের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

