নারায়ণগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান ডিআইজি হারুন অর রশিদের ক্যাশিয়ার খ্যাত মোকাররম সর্দারকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। পরে আদালতে নেওয়ার পর সোমবার তাকে জামিন দেন আদালত। দুই পক্ষের আপসনামা উপস্থাপনের পর সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বদিউজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ফতুল্লা থানা পুলিশের সহায়তায় রোববার মধ্য রাতে আলীগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সোমবার দুপুরে মোকাররমকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক মো. কাউয়ুম খান। তিনি জানান, এই মামলার বাদীর সঙ্গে মোকাররম আপস করেছেন। পরে দুই পক্ষের আপসনামা আদালতে জমা দেওয়া হয়। আপসনামা জমা দেওয়ায় পর আদালত মোকাররমকে জামিন দেন। এর আগে ২ অক্টোবর অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহ আলম নামের ফতুল্লার এক ব্যবসায়ী আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান ডিআইজি হারুন অর রশীদ ও তার সহযোগী মোকাররম সর্দারসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মোকাররম সর্দার আত্মগোপনে ছিলেন। জানা গেছে, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ও মোকাররম সর্দারের উভয়ের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। সেই সূত্রে পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সম্পর্কের প্রভাবে মোকাররম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হন। ব্যবসার কারণে মোকাররম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও নিকলী দুই এলাকাতেই থাকতেন।

