ঢাকাThursday , 24 October 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালাইয়ে ভেজাল ধান বীজে দিশেহারা কৃষক

Link Copied!

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় ৫১.৫ বিঘা জমিতে ভেজাল ধান বীজ রোপন করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রতারিত হয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে কৃষি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন কৃষককের পক্ষে নুর মোহাম্মদ নামে এক কৃষক। আশিক বীজ ভান্ডার থেকে নয়ন সীড সুগন্ধী হাইব্রিড জাতের ধান বীজ নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে দতন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে যানাযায়, গত ১৫ জুন ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজারে আশিক বীজ ভান্ডার, প্রোঃ মো. আ: আলিম মন্ডল এর দোকান থেকে আমন মৌসুমে রোপনের জন্য নয়ন সিড সুগন্ধি হাইব্রিড জাতের ৬০ প্যাকেট ধানের বীজ ১০ হাজার ৮শত টাকার বীজ ক্রয় করি এবং উক্ত বীজটি জমিতে রোপন করি। বর্তমানে বীজটি অরজিনাল না হওয়ার কারণে আমাদের রোপণকৃত প্রায় ৫১.৫ বিঘার ধান নষ্টের মুখে পতিত হয়। উক্ত আঃ আলিম মন্ডল নিম্নমানের বীজ দেওয়ায় আমাদের কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নেয়। আমরা সকল কৃষক হতাশ হয়ে পড়ি। আমরা কেউ জমি পত্তন নিয়ে চাষাবাদ করি, কেউ নিজের জমি চাষাবাদ করি এবং কেউ ঋণ নিয়ে পত্তনী জমি চাষাবাদ করি। এমতাবস্থায় আমাদের সকলের রোপণকৃত ধানের একই সমস্যা। ভেজাল বীজের কারনে আমরা ১২ জন কৃষকের ৫১.৫০ বিঘা জমিতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা । ভালো ফলনের আশায় আশিক বীজ ভান্ডার থেকে নয়ন সীডের সুগন্ধি হাইব্রিড জাতের ধান বীজ ক্রয় করেন কালাই উপজেলার মুড়াইল গ্রামের কয়েকজন কৃষক। জমিতে ধান রোপন করে পরিচর্যা করতে থাকেন তারা। ধানের কুশিতে ভিন্নতা খুঁজে পায় কৃষকরা। এমতাবস্থায় কালাই কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করে ভেজাল বীজের কারন হিসেবে নির্ণয় করেন কৃষি বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুর মোহাম্মদ, মাহফুজ, একরাম, বকুল বলেন, নিশিন্তা বাজারের আশিক বীজ ভান্ডার থেকে ৬০ প্যাকেট নয়ন সীডের সুগন্ধি হাইব্রিড ধান বীজ ক্রয় করেছি। তিনি অতি লাভের আশায় ভেজাল বীজ দিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আমরা ক্ষতিপূরণসহ তার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। বীজ ডিলার আব্দুল আলীম বলেন, বীজ আমি তৈরি করিনা, এটা কোম্পানি থেকে আসে। এসব বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষকসহ আমাকে ডেকেছেন। কৃষি অফিসারের সাথে বসেছিলাম। দু’পক্ষ মিলে বসে কৃষকদের জমির পরিমাণ তালিকা করে ক্ষতিপূরণসহ সমস্যার সমাধান করা হবে। নয়ন সীড কোম্পানির প্যাকেট জাত বীজ আপনি কৃষকদের মাঝে বিক্রয় করেছেন আপনি কি নয়ন সীড কোম্পানির রিটেলার বা ডিলার ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে যান৷ আহমেদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মতিউর রহমান বলেন, আমিসহ ডিলার আব্দুল আলিম সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ধান ক্ষতি হওয়ার প্রমাণ পেয়েছি, আমরা উভয়পক্ষ আলোচনা বসেছিলাম এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমিতে গিয়ে তালিকা ও ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন ডিলার আব্দুল আলিম৷ এ বিষয়ে জানতে নয়ন সীড কোম্পানি এরিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি৷ কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের কৃষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায় যে, নয়ন সীড সুগন্ধি হাইব্রিড জাতের ধান প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ হয়েছে কিন্তু ভেজাল বীজের কারণে ফলনে বিপর্যয় দেখা যায়। একই গোছার ভিন্ন ভিন্ন কুশিতে ধানের ভিন্ন ভিন্ন স্টেজ লক্ষ্য করা যায়। এমতাবস্থায় ভেজাল সুগন্ধি হাইব্রিড জাতের ধান বীজের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।