ঢাকাWednesday , 4 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ত্রিশঙ্কু সঙ্কটে খালেদা!

Link Copied!

khaledaনিজস্ব প্রতিবেদক : এই মুহূর্তে সবার দৃষ্টি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দিকে। ৪ মার্চ, বুধবার, দিনটির ওপর নির্ভর করছে রাজনীতির অনেক হিসাব নিকাশ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির আদেশ মাথায় নিয়ে চরম এক আইনি জটিলতায় আছেন খালেদা জিয়া। যদিও পরোয়ানা বা তল্লাশির আদেশ কয়েক দিন আগে দেয়া হলেও এখনো কার্যকর হয়নি।
গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে দলীয় সঙ্গীদের নিয়ে অবস্থান করছেন বেগম খালেদা জিয়া। কয়েকদিন ধরে সর্বস্তরে আলোচনা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হচ্ছেন কি না?
বুধবার খালেদা জিয়ার মামলার হাজিরার দিন নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বা আদালতে আত্মসমপর্ণ করে কারাবরণ করলে বিএনপি জোটের আন্দোলন হয়তো আরো ব্যাপক ও কঠোর হবে অথবা নিস্তেজ হয়ে যাবে। ফলে পরিস্থিতি পরিবর্তনের একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত আসতে পারে এদিন।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার খালেদা সশরীরে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন নাকি তার প্রতিনিধি পাঠাবেন- সে ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কেউ কিছু জানাতে নারাজ। এর মধ্যেই অনেকটা আকস্মিকভাবেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ৯ জন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূত খালেদার সঙ্গে তার কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আলাপ করেছেন। এসময় তারা হরতাল অবরোধের মতো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্তকারী কর্মসূচি থেকে সরে আসা এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসছে নিয়মিতভাবে।
খালেদা জিয়া হাজিরা দিতে আদালতে যাবেন কি না এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদিও এখনো আমরা ওয়ারেন্টের কপি হাতে পাইনি, যদি আদালতে যেতে এবং আত্মসমর্পণ করতে হয়, তাহলে তিনি আদালতে যেতে ইচ্ছুক। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কার্যালয়ে ফিরে আসার আশ্বাস পেলে।’
দলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবারও তিনি যাবেন না। তাছাড়া যেহেতু খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা হয়েছে, সেহেতু আদালতে হাজিরার প্রশ্নই আসে না।’
সূত্র মতে, খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নাকচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর হাজির না হলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার আদেশ হতে পারে। এতে করে আগামী নির্বাচনে তিনি অযোগ্য হতে পারেন।
তবে আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার প্রতি সরকার নমনীয়তা দেখাতে পারে। তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে হয়তো তাকে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত দেয়া হতে পারে। যদি খালেদার পক্ষ থেকে এমন সাড়া পাওয়া যায় তাহলে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সরকার তার জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। এবং তিনি আদালত থেকে যথাস্থানে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারবেন।
এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রসহ নয় রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংস কর্মসূচি থেকে বিএনপিকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলত আগের ধারবাহিক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তিই ছিল। তবে চলমান সঙ্কট নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় খালেদা সঙ্গে এ বৈঠক- কূটনীতিকরা এমন দাবি করলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠকটি হয়েছিল ১ মার্চ, আর খালেদার আদালতে হাজিরার আগেরদিন সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করতে আসার বিষয়টি অন্যরকম বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এবং ৪ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আদালতের আদেশ সাধারণত ডাক যোগে থানায় পৌঁছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বাহক মাধ্যমে পৌঁছানোরও সুযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার কথা পুলিশ নিশ্চিত না কলেও খালেদা জিয়ার কার্যালয় তল্লাশির অনুমতি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিএনপির আইনজীবীরা এই পরোয়ানা স্থগিতের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা তখনই বলেছিলেন এবং মঙ্গলবার তারা একটি আবেদনও করেন কিন্তু আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আদালত যেহেতু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সেহেতু খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। এরপর তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারে।
সুতরাং বুধবার খালেদা জিয়াকে আদালতে যেতেই হবে। আর তিনি যাওয়া মানে পরোয়ানা তামিল করে আত্মসমর্পণ করা। তখন আদালত তাকে কারাগারে পাঠাবেন নাকি সময় দেবেন এটা যতোটা না আদালতের উপর নির্ভর করছে তার চেয়ে বেশি সরকারের সিদ্ধান্তই এখানে প্রধান নিয়ামক বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ মামলাটি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক বলে অভিযোগ বিএনপির।

বি.দ্র: ত্রিশঙ্কু হলেন মহাভারতে বর্ণিত ইক্ষাকুবংশীয় রাজা। সশরীরে স্বর্গে যাওয়ার জন্য যজ্ঞ করতে চাইলে রাজগুরু বশিষ্ঠ তাতে পৌরহিত্য করতে অসম্মতি জানান। ত্রিশঙ্কু তখন গুরুপুত্রদের কাছে যান। বাবার কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাছে এসেছেন বলে, বশিষ্ঠপুত্ররা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে অভিশাপ দেন। অভিশপ্ত ও বন্ধুবান্ধব পরিত্যক্ত এই রাজার যজ্ঞে বিশ্বামিত্র পৌরহিত্য করতে সম্মত হন। নিজের তেজবলে বিশ্বামিত্র ত্রিশঙ্কুকে স্বর্গারোহনে পাঠাতেই স্বর্গে দেবতারা ত্রিশঙ্কুকে বলেন যে স্বর্গে আসার অধিকার তার নেই– তাকে মর্তে ফিরে যেতে হবে। ত্রিশঙ্কু যখন মর্তে নেমে আসছেন, তখন বিশ্বামিত্র আপন তেজবলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেন। সেখানেই তিনি বহুদিন ঝুলে ছিলেন। এই সঙ্কটাপন্ন অবস্থাকেই এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থা বলে। বশিষ্ঠপুত্ররা বিশ্বামিত্রকে এই যজ্ঞে পৌরহিত্য করার জন্য অভিশাপ দিয়েছিলেন। বিশ্বামিত্র ইন্দ্রের তপস্যা করে সেই অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করে ত্রিশঙ্কুর সঙ্কট মোচন করেছিলেন।