নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে ঠিকাদারি কাজ পেতে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলীকে চাপ প্রয়োগ করছে খুলনা বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী। এতে প্রধান প্রকৌশলী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারি ছোট বড় সব ধরনের কাজ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ৫ আগস্ট ছাত্র- জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ঘটছে নানামুখী রং বেরংয়ের বিচিত্র ঘটনা। বিএনপি নেতা কর্মী ও তাদের সমর্থিত ঠিকাদাররা ১৬ বছর ধরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারি কোন কাজ করার সুযোগ পাননি। এমনকি কেসিসিতে কোন কাজের জন্য আবেদনও করতে পারেনি। এখন কাজ করতে এসে বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থিত ঠিকাদাররা আইনের মারপ্যাচে আটকে পরে ছটফট করছেন। এদিকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতাকর্মীদের লাইসেন্স নিয়ে বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী সমর্থিত ঠিকাদাররা কাজ নিচ্ছেন। যা নিয়ে কেসিসিতে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আবার এসব কাজ পেতে কেউ কেউ মোটা অংকের লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে উভয় পক্ষই চটেছেন কেসিসির প্রকৌশলীদের ওপর। উভয় পক্ষের চাপে পড়ে গত সোমবার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান। সোমবার বিকালে তিনি কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরে অব্যাহতি পত্র জমা দেন। একই আবেদন তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়। সকল নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। যার কারণে প্রধান প্রকৌশলী পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্র সংসদের এক সময়ের ভিপি ছিলেন। তৎকালীন ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতাও ছিলেন তিনি। এখন খুলনা বিএনপির নেতৃবৃন্দের চাপে চাকরি ছেড়ে দিতে চান। খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা অবৈধ ভাবে কাজ নেওয়ার জন্য মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে কেসিসির এই প্রধান প্রকৌশলীকে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে খুলনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থ বছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসির ৩ টি প্রকল্পে মোট ৪৯৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা চলতি অর্থ বছরেই পাওয়া যাবে এবং গত অর্থ বছরে অসমাপ্ত কাজের দরপত্রের প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজ নিতে নানামূখী তৎপরতা শুরু করেছে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থিত ঠিকাদাররা। ভুক্তভোগিরা জানান, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সবাই ঠিকাদারি কাজ নিতে নগর ভবনে ভিড় করছে। চলছে তদবিরের পর তদবির। নেতার তদবির, কর্মীদের তদবির আবার পদধারি নেতার আত্বীয় স্বজনের তদবির। কোন নেতা যদি একজনের জন্য তদবির করে সাথে সাথে আরেকজন বিরোধীতা করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে খুলনা মহানগরীর বিএনপির বড় নেতারা আওয়ামী ঠিকাদারদের সাথে পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে। এখন কাজ পেতে হলে সাধারণ ঠিকাদারদের বিএনপির বড় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তা না হলে কাজ পাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকছে না। কেসিসিতে এখন ঠিকাদারদের মৌসুম চললেও একে অপরকে ঘায়েল করতে মরিয়া সবাই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মশিউজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, আমার কাজের ব্যর্থতা অনেক বেশি এবং শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ বোধ করায় আপাতত পদত্যাগ করেছি। কোন চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছেন কিনা জানতে চাইতে তিনি বলেন, না কোন প্রকার চাপ ছিলো না আমার উপর।

