ভোলার দৌলতখানে মেঘনায় মঙ্গলবার সন্ধায় এমটি ইউসিল নামক একটি তেলবাহী জাহাজে (ওয়েল ট্যাঙ্কার) ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জলদস্যুরা ওই তেল ট্যাঙ্কারের চালক নুরের নবীসহ ৫ স্টাফকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করেছে। এর মধ্যে চালক নুরের নবী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতখান থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার ডাকাতদেরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দস্যুতার শিকার ওয়েল ট্যাঙ্কারের চালক নুরের নবী জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় চট্টগ্রাম পদ্মা অয়েল কোম্পানির জেটি থেকে ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৮ লিটার জেট ফুয়েল লোড করে জাহাজটি নিয়ে নারায়নগঞ্জ গোদলাইন পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপোর উদ্দেশে রওনা দেই। মঙ্গলবার সন্ধা নাগাদ ভোলার দৌলতখানের চৌকিঘাট এলাকায় পৌঁছালে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ২০-২১ জন লোক দ্রুত গতিতে এসে আমাদের জাহাজের সাথে লাগিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে জাহাজে উঠে পড়ে। এ সময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে জলদস্যুরা আমাকেসহ জাহাজের স্টাফদের মারধর করে একটি কেবিনে আমাদের জিম্মি করে রাখে। তারা জাহাজের স্টাফদের কাছে থাকা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৬ টি মোবাইল ফোন সিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, জলদস্যুরা জাহাজে হানা দেওয়ার আগেই বিএইচএসের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা অন্যান্ন জাহাজে মেজেজ পাঠালে অন্য কয়েকটি জাহাজ এগিয়ে আসে। এ সময় জলদস্যুরা নদীতে ঝাপিয়ে পড়লে ১৫ জনকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে দৌলতখান থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ১৫ জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে। তারা এখন থানা হেফাজতে রয়েছে।

