স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় পাবনার ঈশ্বরদীতে জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বাদশা আলমগীর নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এই আকমল শুধু মাদক ব্যবসার না অস্ত্র ব্যববসার সঙ্গেও জড়িত। খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, চাদাবাজি, ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে এই আকমলের বিরুদ্ধে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্ঠা কার্যালয়ে দায়ের করা এক অভিযোগে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, আকমল পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার কামারপাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের তাঁতী লীগের সভাপতি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পরও এই আকমল ঈশ্বরদীতে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদী প্রায় ৩০টি স্পটে আকমল বাহিনী প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। এসব স্পটে প্রতিদিন ১০/১২ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হচ্ছে। এক সময় এই টাকার একটি বড় অংশ সোহেলের মাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দেয়া হতো। তার মাদক সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলো-আকমলের স্ত্রী তামান্না, চাচী ফিরোজা, ভগ্নিপতি আমিরুল ও ভাই লিখন। আকমল বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৪০ জন। আরো রয়েছে কিশোর গ্যাং। যার সদস্য সংখ্যা ২৫ জনের মত। আকমলের ছিনতাই ও মারপিট গ্রুপের প্রধান কামারপাড়া রবিউলের ছেলে ইয়াছিন, শুভ ও আকাশ। আকমলের চাঁদার টাকা আদায় করে মিলন, বারেক, লিখন, আমিরুল ও তামান্না। ২০১৫ সালে আকমল সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান রশিদ তমালের ছত্রছায়ায় এই অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। নেপথ্যে তাকে সহায়তা করত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারি ট্রেজারার সোহেল রানা। ২০২০ সালে ঈশ্বরদী আকবরের মোড়ে ঈশ্বরদীর তৎকালীন সার্কেল এসপিকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলায় আকমল অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলেও তাকে প্রভাব খাটিয়ে ছাড়িয়ে আনে সাবেক এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সহকারি ট্রেজারার সোহেল রানা। এই সোহেল রানার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই সোহেল রানার দাপট দেখিয়ে আকমল এখনো ঈশ্বরদীতে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ এই মাদকও অস্ত্র ব্যবসা সম্পর্কে জানলেও সোহেলের কারণে কোন পদক্ষেপ নেয় না। এই সোহেলের বড় ভাবী সুমি, আকমলের স্ত্রী তামান্নার ভয়ে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ বা কথা বলতে সাহস পায় না। আকমল ঈশ্বরদীর শীর্ষ স্ত্রাসী। তার অস্ত্র ভাণ্ডারে রয়েছে, চাইনিজ পিস্তল-২টি, পাইপ গান-১টি, দেশি রামদা-৩০০, হাসুয়া-৫০/৭০, হকিস্টিক-১০০ ও লোহার রড ২০০টি। গত একযুগ ধরে সোহেল রানা সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে দিয়ে দেশের বিভিন্ন থানায় ওসি ও দারোগা বদলি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই অবৈধ টাকায় সে রাজধানী ঢাকার আদাবর দোতলা বাড়ি ও মিরপুরে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছে। ঈশ্বরদী সদরে রয়েছে তার এক বিঘা জমি যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট পাবনা লাইব্রেরী বাজার হামিদ রোডে ঈশ্বরদী ভারারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাঈদ, সোহেল ও আকমল ছাত্রজনতার উপর গুলি চালায় এবং কলেজ ও স্কুল ছাত্র জাহিদ ও নিলয় নিহত হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করেনি। এরা যাতে গ্রেফতার না হয় সোহেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসে থানা পুলিশকে বিরত রাখছে। আগে থেকেই সোহেল এ ধরনের কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধী ও ইন্ধনদাতাদে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসি।

