
ফাইল ফটো
নিজস্ব প্রতিবেদক : হরতাল ও অবরোধের সময় কেন এসএসসি পরীক্ষা হবে না এবং স্কুল-কলেজ কেন খোলা থাকবে না- এ মর্মে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের অনুলিপি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে হাইকোর্টের রিট শাখার মো. হেলাল উদ্দিন আদেশের অনুলিপিটি গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।
এসময় গুলশাপন কার্যালয়ের গেট থেকে অনুলিপি গ্রহণ করেন চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।
শায়রুল কবির খান জানান, অবরোধ ও হরতালের সময় কেনো এসএসসি পরীক্ষা হবে না এবং স্কুল-কলেজ কেন খোলা থাকবে না এই মর্মে হাইকোর্ট এই রিট দিয়েছে।
আদেশের অনুলিপি থেকে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জের সাইফুল রহমান নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও আবু তাহের মো. সাইফুরের দ্বৈত বেঞ্চে চলমান হরতাল-অবরোধের সময় এসএসসি পরীক্ষা কেন হবে না এবং স্কুল-কলেজ কেন খোলা থোকবে না তা জানতে এ রিট আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে জানতে ইতিমোধ্য সরকার ও বিএনপিসহ সারাদেশের ১৬০টি জেলায় এই রিট পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে রিট থেকে জানা গেছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবারও হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি রুলের কপি খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ রুল জারি করা হয়েছিল।
কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহীনুর রহমান শাহীন ও কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে শফিউল আজম খান বারকুর করা পৃথক দু’টি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই রুলসহ একাধিক রুল জারি করেছিলেন।
ওই রিট দু’টির শুনানি শেষে হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে, এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে ও পরীক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচন চেয়ে জানুয়ারির ৬ তারিখ থেকে লাগাতার অবরোধ চালিয়ে আসছে ২০ দলীয় জোট। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে অবরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরতালও। এসব কর্মসূচি চলাকালে যাত্রীবাহী বাসে ও ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় প্রায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধেও নিহত হয়েছেন বেশ কজন।

