ঢাকাTuesday , 24 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দক্ষিণ পশ্চিমের ৪ জেলায় কৃষির উন্নয়নে কাজ করছে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প

Link Copied!

BADC Mujibnagar

নিজস্ব প্রতিবেদক : আধুনিক ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তি প্রচলনের মাধ্যমে অধিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলা মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার ১৯টি উপজেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্প এলাকার কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে প্রকল্পটির ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে বিএডিসি লীড এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে খাল, নালা খনন ও পুনঃখননসহ বিভিন্ন ক্ষমতা সম্পন্ন লো-লিফট পাম্পের সর্বোচ্চ ব্যবহার, ফোর্সমোড টিউবওয়েল, বারিড পাইপ স্থাপন এবং ফিতা পাইপ ব্যবহারের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৬শ’ ৭৫ হেক্টর কৃষি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএডিসি অঙ্গের মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করে পতিত জমিকে শস্য উৎপাদনের আওতায় আনা এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি ও উদ্যান ফসলের চাষ করে প্রকল্প এলাকায় শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এলাকা উপযোগী উচ্চ ফলনশীল, কীট-পতঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধক সবজি, আলু ও ফল, ডাল, তৈল বীজ এবং ভুট্টার উন্নত জাত উৎপাদনেও প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক ক্রপিং প্যাটার্ন নির্ধারণ, লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ

২০১১ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০১৬ সালের জুন মাসে সমাপ্ত হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ২শ’ ১২ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের বিএডিসি অঙ্গের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প এলাকায় ১১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। একই সময়ে ৫৯টি ২ কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপের ইউপিভিসি বারিড পাইপ লাইন (৭০৮০০মিঃ) এবং একই সংখ্যক পাম্পহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। ৫০টি গভীর নলকূপ পুনর্বাসনসহ বড় আকারের ১০টি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার, ১৪টি মাঝারি আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার এবং ৪৫টি ছোট আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ করা হয়েছে।২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময়ে ৭২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২টি ২ কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপের ইউপিভিসি বারিড পাইপ লাইন (২৬৪০০মিঃ) এবং ২৫টি ফোর্সমোড পাম্পহাউজ নির্মাণ করা হবে। বড় আকারের ৩টি, মাঝারি আকারের ১০টি ও ছোট আকারের ১০টি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ করা হবে বলেও জানা গেছে। ২২টি বারিড পাইপ লাইন ও ১১০০০ মিঃ ফিতা পাইপ এর সংস্থান রাখা হয়েছে। বারিড পাইপ লাইন এর মাধ্যমে সেচ প্রদানের ফলে পানির অপচয় কম হচ্ছে। কম পানি দিয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে সেচ প্রদানের ফলে সেচ খরচ কম হচ্ছে।
সামগ্রিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএডিসি অঙ্গের প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির কার্যক্রমের ফলে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তির প্রচলন ও সম্প্রসারণ ঘটেছে। বর্তমানে এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক ফসল উৎপাদনে আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকরা ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাচ্ছেন; তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।