নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ফের সময় নিল দুদক। বুধবার দুদকের করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইমরুল কায়েস আগামী ১৯ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি দুদকের একই ধরনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক।
এরও আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বরও দুদকের একই ধরনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি ধার্য করেছিলেন আদালত।
এ বছরের ১১ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে বিব্রত বোধ করেছিলেন ঢাকার বিভাগীয় জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রশিদ। এর পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
এর আগে গত ১৫ মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে রাডার ক্রয়ে দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেন এরশাদ। মামলার অপর দুই আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সুলতান মাহমুদও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ মামলার আসামি একেএম মুসা শুরু থেকেই পলাতক।
মামলাটি নিষ্পত্তিতে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার ক্রয়ের আবেদন করেন।
জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাই পাওয়ার রাডার ও দু’টি লো-লেভেল রাডার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু পরে রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনেন। এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

