নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এদিন মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল না করতে না পারায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আরেফিন নতুন ওই দিন ধার্য করেন।
গত ২০ জানুয়ারিও এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য ছিল।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ২১ অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী এ মামলা করেন। মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটি করা হয়।
ওইদিন বিচারক সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘গত ১৪ অক্টোবর বিকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়া অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোন ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। হরতালের সময় তারা পুরান ঢাকায় বিশ্বজিতকে হত্যা করেছে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় তারা অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে র্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে খুন করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ হিন্দুদের ওপর হামলার সময় বলে- তোরা হিন্দু হয়ে বিএনপি করিস কেন?’
মামলায় আরো বলা হয়, ‘খালেদা জিয়ার এ সকল বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণীগত বিভেদও সৃষ্টি করেছে। যা দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারার অপরাধ।’
মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছে।

