নিজস্ব প্রতিবেদক : গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় ঘেরাও করতে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গুলশান-২ নম্বরে মিছিলটি আসা মুহূর্তেই একটি হাতবোমা ছুঁড়ে মারা হয়। এতে দুইজনের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে আহত হন। এছাড়া আহত হন আরো বেশ কয়েকজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ সময় গুলশান এলাকায় ডিউটিতে থাকা এসআই মান্নাফ বলেন, ‘মন্ত্রীর মিছিলটি যখন গুলশান-২ নম্বর অতিক্রম করছিল, তখন একটা শব্দ শুনেছি। তবে সেটা ককটেল কি না জানি না।’
বোমা হামলায় ডান পায়ে আঘাত পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্মলীগের গেণ্ডারিয়া থানার সভাপতি রুবেল আহমেদ ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি জানান, মিছিলটি যখন খালেদার কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল তখন গুলশান-২ নম্বর মেট্রোপলিটন মার্কেটের সামেন কে বা কারা বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় তিনি পায়ে আঘাত পান। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যায়। বোমা হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সেই হাসপাতালে আহত হয়ে আরো ভর্তি আছেন আবু তাহের ইমন। বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্মলীগের গেণ্ডারিয়া থানার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তিনি। ইমন হাতে আঘাতপ্রাপ্ত।
এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলেও একজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তার নাম বাবুল আহমেদ (৫৪)। মতিঝিলের একটি কোম্পানির গাড়িচালক তিনি। বাবুল শ্রমিক লীগের কর্মী বলেও জানা গেছে। তার বাসার ঠিকানা ১৬৫ ফকিরাপুল। তার ডান পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত লেগেছে। কপাল ও মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রজন্ম লীগের নেত্রী হেনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণে অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গুলশান জোনের ডিসি লুৎফুল কবির বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে- মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজা থেকেই বোমা হামলা চলানো হয়েছে। এ জন্য এই শপিং সেন্টার থেকে ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, বোমা হামলার এ ঘটনায় মোট ১১জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের চলমান হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়কে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওয়ের মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। এর আগে সকালে খালেদার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা উত্তর মহিলা লীগ।

