নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের চলমান হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়কে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার সকাল থেকে সরকার সমর্থিত বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে খালেদার কার্যালয় অভিমুখে মিছিল ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বাধা উপক্ষো করে খালেদার কার্যালয়ের সামনের সড়কে ঢোকার চেষ্টা করে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের মিছিলে হাতবোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে গতকাল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে তার নেতৃত্বে খালেদার কার্যালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হাতবোমা হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে একজনের পা উড়ে যায়। আহত হন আরো পাঁচজন। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এর আগে সকালে খালেদার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা উত্তর মহিলা লীগ। মিছিল শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনের ৮৬ নম্বর সড়কে ঢুকে পড়েন মহিলা লীগের সদস্যরা। পরে পুলিশি বাধার মুখে নেতাকর্মীরা ফিরে আসতে বাধ্য হন।
এদিকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়কে ঘিরে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ, আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। কার্যালয়ের সামনের ৮৬ নম্বর সড়কে সাধারণ মানুষ ও যান চলালচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে নিজের গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখান থেকে ৫ জানুয়ারি বের হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। যা এখনো অব্যহত। অবরোধের পাশাপাশি চলছে হরতাল কর্মসূচিও।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধে পেট্রোলবোমায় প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক। আর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটপট করছেন আরো কয়েকগুণ মানুষ।

