যশোর প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আগে পেট্রোলবোমা হামলা করে মানুষ হত্যা ও জানমালের ক্ষতির দায় স্বীকার করুন, এরপরে সংলাপের কথা বলুন। আর যদি দাবি করেন, মানুষ পুড়িয়ে মারার সাথে বিএনপি জড়িত না, তাহলে কার সাথে সংলাপ করবো। তখন তো আওয়ামী লীগকে যে ‘ভুতে’ পেট্রোলবোমা মারছে তাকে খুঁজে বের করার পর সংলাপ করতে হবে।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘যে সুশীল সমাজ টিভি টকশোতে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন, তারা তো ১/১১ এর সময় ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলেননি। আসলে তারা দু’দলের সংঘাত বাড়ানো নিয়ে কথা বলেন এবং সংঘাতের সুযোগে ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।’ এসময় তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্য আওয়ামী লীগকে মাঠ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু। সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদের পরিচালনায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন ও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ।
এসময় কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, খালেজা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত বোমারু ভাড়া করে জঙ্গি কায়দায় পেট্রোলবোমা হামলা করে মানুষ মারছে।’ খালেদা জিয়া পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় দাবি করে কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বার বার তার (খালেদা) দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেই ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী খালেদার জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অপমান মানে বাংলাদেশের অপমান।’
কাজী জাফর উল্লাহ খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনার আর কত রক্ত দরকার? আপনি তো হরতাল অররোধ ডেকে নিজে অবরুদ্ধ হয়ে গেছেন। অবরুদ্ধ থেকে ভাড়া করা জঙ্গি দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। এজন্য আপনাকে একদিন মূল্য দিতে হবে।’
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য এনামুল হক শামিম, এসএম কামাল হোসেন।
বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি রণজিৎ কুমার রায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক এমপি কাজী নাবিল আহম্মেদ ও আব্দুল মজিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমপি মনিরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির নেতা কামরুল হাসান বারী প্রমুখ।

