বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি দলটাই দুর্নীতিবাজদের দল। সেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের দলের নেতারা মানুষের কাছে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত। নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করতেই সরকারের নামে মিথ্যাচার করছে বিএনপি।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে বুধবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকার শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী মো. রনক আহসান।
মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিদিনই ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব সরকারের উন্নয়ন দেখে, এখন আর উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। নেতারা আগে বলতো, উন্নয়ন কোথায় হয়েছে, উন্নয়ন নাই, কিছু নাই। এখন বড় বড় মেগা প্রকল্প, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র— এগুলো দেখে আর বলতে পারছে না যে, উন্নয়ন হচ্ছে না। এখন তাদের ভোল পাল্টে গেছে। এখন বলে বড় বড় প্রকল্পের নামে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ নাকি তারেক রহমান। তিনি একজন দুর্নীতিবাজ, পলাতক, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কি একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তারেক রহমান তা দেশবাসী দেখেছে। তার ব্যাখ্যা শুনে লজ্জায় মাথায় হেট হয়ে যায়। যে দল এ রকম একজন নেতাকে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে, যাদের ন্যূনতম মেধা নেই, এরা দেশের কি উন্নয়ন করবে?
তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার দুর্নীতি করছে বলে। দুর্নীতির অভিযোগে তো বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দণ্ডিত। একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দণ্ডিত। আরেকজন হাওয়া ভবনকে খাওয়া ভবন বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। লুটের পয়সায় এখন লন্ডনে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন। ওনার কাজ কি? ব্যবসা কি? আয়ের উৎসটা কি? বিএনপির আমলে দুর্নীতিতে বিশ্বে এক নম্বর ছিল বাংলাদেশ, সেকথা মানুষ ভুলে যায়নি।
হানিফ বলেন, মিথ্যার ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। সরকারের উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ পাচ্ছে। আজ শেখ হাসিনার কারণে দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুজিববর্ষে শতভাগ পরিবারের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে শুরু থেকে একটা স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করেছেন। তার স্বপ্নের একটি অংশ ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের পাশাপাশি উন্নত-সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি। সেই উন্নত রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধুর দক্ষতা ও বিচক্ষণতায় অত্যন্ত উঁচু মানের ছিলেন, যা বিশ্বের মধ্যে খুব বিরল ছিল। তিনি রাজনৈতিক জীবনে কখনো হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডেই অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার ফলেই স্বাধীন রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে পারছেন।

