নিউজ ডেস্ক : জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্পর্কে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংস্থার মহাসচিবের উপপ্রধান মুখপাত্র ফারহান হক গত ৫ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের উদ্বেগ ও অব্যাহত ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা জানান। প্রশ্নোত্তরপর্বের বাংলাদেশ অংশের মূলভাবটি অনূদিত হলো।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর ব্যাপারে আপনার কাছে জানতে চাই। প্রথমে বাংলাদেশ ইস্যু। সেখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর অগ্নিসংযোগের দায় এসেছে। এতে তিনি আদৌ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। বিরোধী দলের সক্ষমতার জায়গাটুকু পুরোপুরি নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়ছে। সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপরও ক্রমশ সহিংস ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। এসবের প্রেক্ষিতে আমরা জানতে চাই, জাতিসংঘের মহাসচিব কী ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। জানতে চাইছি জাতিসংঘের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কিংবা অন্য কোনো বিভাগ এসবের মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসবে কিনা। শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের নাগরিক দেখভালে এগিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা, বাংলাদেশ যেখানে শান্তিরক্ষা মিশনের অন্তর্ভুক্ত দেশ।
উত্তর: বেশ। প্রথম কথা হচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইস্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকরণের কোনো সংশ্রব নেই। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা দুই বিষয়। শান্তিরক্ষা মিশনে কার্যরত কর্মকর্তারা পুরোপুরি মিশনের নিয়ন্ত্রণে আছেন। বাংলাদেশ ইস্যুতে ইতোমধ্যে আমাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছি। আপনারা জানেন, জাতিসংঘের পলিটিকাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ কর্তাব্যক্তিরা একেরপর এক বাংলাদেশ সফর করেছেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছেন, এখনও বসছেন। যেন বাংলাদেশের চলমান সংকট একটা শান্তিপূর্ণ পথে সামাধানের পথ দেখতে পারে। আপনারা জানেন, বারংবার উদ্বেগ প্রকাশের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে সেখানে, সহিংসতাও অব্যাহত থাকছে। বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ ও সমাবেশ যদি শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় হতে থাকে, তবে তাকে উৎসাহিত করার জন্যে আমরা সরকারকে অবিরত অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রধান দুই দলের নেতার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ তো রয়েছেই। তারা যেন পারস্পরিক মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে পারেন, সে ব্যাপারে পূর্ণসহায়তা দানে জাতিসংঘ এখনও তৎপর আছে।
ফারহান হক জাতিসংঘের উপপ্রধান মুখপাত্র হিসেবে সংস্থাটির সার্বিক আন্তর্জাতিক তৎপরতা সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলোকে অবহিত করে থাকেন। ৫ ফেব্রুয়ারির সাক্ষাতকারে তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও ইউক্রেন, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদানসহ অস্থিতিশীল অন্যান্য দেশগুলোর সহায়তায় জাতিসংঘের কর্মপন্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

