নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সকল প্রকার দায়দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে, তাই বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সংলাপের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর। একই সঙ্গে রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার পথ থেকে সরে আসতে বিএনপি জোটকেও তিনি আহ্বান জানান।
আর যদি তারা সংলাপের পথে না আসে তাহলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
‘জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও সহিংসতা নিরসনে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ’র দাবিতে গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী ১৭ কিলোমিটারব্যপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সবাই সাদা পতাকা হতে অবস্থান নেয়।
রেজাউল করীম বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষের বুকে গুলি চালাবে আর আমরা নীরব হয়ে সেটা দেখবো তা হতে পারে না। মানুষ মরবে আর আপনি লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করবেন এটা আমরা হতে দিতে পারি না। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করবে সেটাও বাংলার মানুষ সহ্য করবে না। মানুষ হত্যার রাজনীতি বাংলার মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে ব্যবস্থা নিতে ইসলামী আন্দোলন আহ্বান জানিয়েছিল কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। তাই শান্তির দাবিতে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে।’
শিগগিরই এই সঙ্কট সমাধানে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি জেলায় সাদা পতাকা হাতে মানববন্ধন করা হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি থানা পর্যায়ে মানববন্ধন করা হবে বলে জানান তিনি। এরপরও সমাধান না হলে সারাদেশ থেকে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে সাধারণ জনগণ রাজধানী ঢাকাতে সমবেত হয়ে আরো কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।
যে সব দেশ আল্লাহর বিধান মোতাবেক চলে সেসব দেশে শুধু মানুষ নয় পশুপাখিও শান্তিতে থাকে উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইসলামী শাষণ কায়েম করতে সবাইকে রাজপথে নেমে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
‘বোরকা পরে কলেজে আসা যাবে না’ সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রেজাউল করীম বলেন, ‘বোরকা আপনার বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়।’ এসব নাস্তিক, ইসলামবিরোধী মন্ত্রীদের অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
এসময় ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে তার জন্য সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু এই সরকার স্বীকারই করতে চায় না দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে।’
তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি প্রশাসন দিয়ে রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করার চেষ্টা করবেন না। তাতে সমাধান পাবেন না, আলোচনায় বসুন সংলাপ করুন।’
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বীন আলমাদানী, মাওলানা নুরুল হুদা, সংগঠনের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দীন প্রমুখ।

