নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ দুর্নীতির তিনটি মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইমরুল কায়েম শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনার পরে এ আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার দুদকের পক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মীর আব্দুস সালাম আদালতে ওই প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য আবেদন করেন।
এর আগে সম্প্রতি দুদকের ওই প্রতিবেদন দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ ঢাকা সিএমএম আদালতে দাখিল করেন। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি সিএমএম আদালত থেকে প্রতিবেদনটি গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় নভোথিয়েটার নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে ৩টি মামলা করে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ওই ব্যুরোর পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম একটি এবং অ্যান্টি করাপশন অফিসার (এসিও) খান মো. মিজানুল ইসলাম অপর দুটি মামলা করেন। মামলাগুলোয় যথাক্রমে ৭ জন, ৮ জন এবং ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া এবং শিক্ষামন্ত্রী এ এইচ এস কে সাদেক মারা গেছেন। অন্যদের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর উচ্চ আদালত থেকে এর আগে অব্যাহতি নিয়েছেন।
মামলা ৩টি ১৩ বছর ধরে পড়ে থাকার পর ২০০৫ সালের ২৪ আগস্ট বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের কমিশন গুরুত্ব বিবেচনা করে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনা পৃথক দুটি রিট (নং-৭৯৬৬/০৫ এবং ৭৯৬৭/০৫) করলে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের ৪ মার্চ চার্জশিট দাখিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।
রায় সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেন, নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলা শেখ হাসিনাকে হয়রানি করা এবং হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই দায়ের করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তকে আমলে নিয়ে মামলাগুলো করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো ছিল- প্রকল্প পরামর্শকের ব্যয় বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বৃদ্ধি।
অভিযোগগুলো ফৌজদারি আইনের কোনো বিধানের আওতায় পড়ে না। মামলাগুলো চললে আসামিরা হয়রানির সম্মুখিন হবেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে এও বলেন যে, মামলার নথিপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
পরে ওই তিন মামলার চার্জশিট আর দাখিল করা হয়নি। পরবর্তীতে দুদক মামলাগুলো পুনর্তদন্ত করতে দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

