ঢাকাWednesday , 4 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডাল, তেল ও পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম

Link Copied!

DAEহাসান রেজা : দেশে ডাল, তেল ও পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ফসলগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুণগত মানসম্পন্ন বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প কাজ করছে। ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজের চাহিদা অনুয়ায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে প্রকল্পটি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অন্যান্য ফসলের মত মশুর, মুগ, ছোলা, মাসকলাই, খেসারি, সরিষা, তিল ও পেঁয়াজ যথেষ্ট ভাল হলেও স্থানীয় জাত ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও মানসম্মত বীজ ব্যবহার না করার কারণে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়া অনেক কৃষকের মধ্যে নিজেদের উৎপাদিত বীজ দিয়েই ফসল আবাদের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত ঐ বীজ সঠিক উপায়ে সংরক্ষিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। ফসল উৎপাদনের সকল ধাপে পরিচর্যা সঠিকভাবে পালনের পরও ভাল বীজ ব্যবহার ছাড়া ফলন বৃদ্ধি করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। পাশাপাশি ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে বিভিন্ন ফসলের মানসম্মত বীজ বিশেষ করে মশুর, মুগ, ছোলা, মাসকলাই, খেসারি, সরিষা, তিল ও পেঁয়াজ বীজের সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এসব কারণে কৃষকরা ডাল, তেল ও পেঁয়াজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হন। এই প্রেক্ষিতে মানসম্মত বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানসম্মত বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের ১৫-২০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাংলাদেশের কৃষকরা মানসম্মত বীজ পেতে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হন। অন্যান্য ফসলের মতো ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ প্রাপ্তিতে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে ভিত্তি বীজ সংগ্রহ করে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করে থাকে। বর্তমানে বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সব ফসলের মোট বীজের চাহিদার বিপরীতে যে পরিমাণ বীজ উৎপাদন করে তা খুবই অপ্রতুল। সরকারি পর্যায়ে একমাত্র বিএডিসি দানা জাতীয় ফসলসহ ডাল, তেল ও পেঁয়াজের বিভিন্ন জাতের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করে। এর প্রেক্ষিতে ডিএই’র উল্লেখিত প্রকল্পটি দেশে ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির কার্যক্রম ২০১৮ সালের জুন মাসে সমাপ্ত হবে। পার্বত্য ৩ জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলার সকল উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, চাষী পর্যায়ে মানসম্মত বীজপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে  মানসম্মত বীজের চাহিদা পূরণ করা  সম্ভব হবে। এ ছাড়া সুষম সার ব্যবহার করে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। ফলে বৃহৎ পরিসরে মানসম্মত বীজ উৎপাদনকারী চাষীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। ফলে ডাল, তেল ও পেঁয়াজ আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দেশীয় অর্থনীতির ভিত আরো মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মেয়াদের পাঁচ বছরে বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। এ সময়ের কর্মপরিকল্পনায় মশুর, মুগ, খেসারি, মাসকলাই, সরিষা, তিল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বিষয়ক মোট ৭৮ হাজার প্রদর্শনী বাস্তবায়িত হবে এবং এ সময়ে ৭ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন বীজ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ৫ বছরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬০ ব্যাচ কর্মকর্তা, ২৬০ ব্যাচ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) এবং ২৬০০ ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। কমপক্ষে ১০-১৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭ হাজার ৮শ’ কৃষাণীকে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে তাদের দারিদ্র বিমোচনে যথাসম্ভব প্রচেষ্টা চালানো হবে।
প্রকল্প সূত্রমতে, চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মশুর, মুগ, খেসারি, মাসকলাই, সরিষা, তিল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বিষয়ক মোট ৮ হাজার ৯শ’ ৪০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়িত হবে এবং এ সময়ে  প্রায় ৯শ’ মেট্রিক টন বীজ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ অর্থবছরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০ ব্যাচ কর্মকর্তা, ৫২ ব্যাচ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) এবং ২৯৮ ব্যাচ  কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কৃষাণীকে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে তাদের দারিদ্র বিমোচন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।