বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র রংপুর (ক্ষুদ্রসেচ) সার্কেলের আওতায় চলমান রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার। প্রকল্প কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুরূপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি গত ১০ আগস্ট এ পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।
প্রকল্প সূত্র জানায়, পরিদর্শন কার্যক্রমের শুরুতে প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার ২০২০-২১ অর্থ বছরে পুনঃখননকৃত পাঁচ কলির খাল (৪.৬৫ কি. মি.) পরিদর্শন করেন এবং পুনঃখননকৃত খালের পাড় ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার্থে খালের উভয় পাড়ে বিভিন্ন জাতের ঘাস এবং গাছ রোপণের জন্য বিএডিসি’র উপস্থিত কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং উপকারভোগী কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চাকির পাশা খাল (২.২০৫ কি. মি.) পরিদর্শন করেন এবং খাল পুনঃখননের ফলে উপকারভোগী কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। উল্লেখ্য, চাকির পাশা খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে, ২ ফসলি জমি ৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। মতবিনিময়কালে উপকারভোগী কৃষকগণ বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে আশেপাশের প্রায় ১০০ কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ, নির্বাহী প্রকৌশলী (সওকা), বিএডিসি লালমনিরহাট রিজিয়নের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম (ক্ষুদ্রসেচ) জোনসহ লালমনিরহাট (সওকা) রিজিয়নের আওতাধীন উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপকারাভোগী কৃষকগণ।

রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার প্রকল্পের সুফলভোগীদের সাথে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন
এরপর প্রকল্প পরিচালক কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন চর পরিদর্শন করেন এবং চরে বসবাসকারী কৃষকগণের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনাকালে চরের কৃষকগণ চরাঞ্চলে জমিতে ফসল ফলানোর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন এবং কৃষি তথা সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন চাহিদার কথা জানান। কৃষকগণ চরাঞ্চলে ফসল উৎপাদন লাভজনক করতে সেচ সুবিধা সহজতর করার জন্য বিদ্যুৎচালিত ও সোলারচালিত এলএলপি স্থাপন এবং ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণে চাহিদার কথা জানান। এছাড়া বীজ সংরক্ষণের জন্য হারমোটিক ব্যাগ/কোকন, ড্রাম, উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের জন্য ত্রিপল এবং অস্থায়ী হিমাগার নির্মাণের দাবিও জানান তারা।
উল্লেখ্য, রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে চিলমারী উপজেলার বান্ডালের চর, বলবান্দিয়ার খাতার চর, শাখা হাতীর চর, বড়াই বরিশাল চর এবং অষ্টমির চর ইউনিয়নের চরসমূহের মধ্যে নটার কান্দি চর, মোদাফৎ কালিকাপুর চর, বড় চরে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব চরের মোট আয়তন প্রায় ২০০ বর্গ কিলোমিটার। কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখন্ড হতে আলাদা স্থায়ী চরসমূহে বসতবাড়িসহ বাজারঘাট বিদ্যমান। অস্থায়ী চরগুলোতে শুকনো মৌসুমে এবং স্থায়ী চরগুলোতে সারাবছর প্রধানত পাট, ধান, গম, পিয়াজ, রসুন, কাউন, চিনা বাদাম, ধনিয়া, মৌরি ইত্যাদি ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।
চর পরিদর্শনকালে প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার বলেন, রংপুর বলেন চরাঞ্চলের এসব জমিতে ফসল উৎপাদন তরান্বিত করতে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও সংরক্ষণাগার এবং বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে অনেক পতিত জমি আবাদের আওতায় আসবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে যা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।

