ঢাকাSunday , 22 August 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহী বিভাগে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম

Link Copied!

  • মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান

রাজশাহী বিভাগে মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন রাজশাহী বিভাগে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। ফলে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ অঞ্চলে দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রকল্পটি।
সূত্র জানায়, রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি, নওগাঁর ১১টি, নাটোরের ৭টি, জয়পুরহাটের ৫টি, বগুড়ার ১২টি, সিরাজগঞ্জের ৭টি এবং পাবনার ৯টিসহ মোট ৬৫টি উপজেলায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে মাছ চাষ ও মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের পোনা মজুদ ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষাকরণে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া, স্থায়িত্বশীল জলীয় বাস্তুতন্ত্র ও উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের জন্য মাছের আবাসস্থল উন্নয়ন, দরিদ্র মৎস্যজীবী ও মাছচাষিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করে রাজশাহী এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনের বিপন্নতা হ্রাস এবং এ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার অধিক সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় নানাবিধ কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রদর্শনী খামার

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ১৬.২০ হেক্টর বিল নার্সারি খনন ও স্থাপন এবং ৩০ হেক্টর অভয়াশ্রম উন্নয়ন করা। এছাড়া, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, বগুড়ার গাবতলী ও কাহালু এবং নওগাঁর পত্নীতলায় গ্রামীণ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের অফিস কক্ষসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সংস্কার, প্রয়োজনীয় অভয়াশ্রম তৈরি এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া, মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও মৎস্য চাষে নিয়োজিত সকল পেশাজীবী ও অপেশাজীবী কর্মীর দক্ষতার উন্নয়ন সাধনেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রকল্পটি। এ লক্ষ্যে বরেন্দ্র এলাকায় ১,৫৯০টি প্রদর্শনী খামার ডেমো, ২ হাজার জেলে যারা অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরেন তাদের প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দরিদ্র ও নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, বিশেষ করে দরিদ্র ও দুঃস্থ নারী, যাদের পুকুর/ডোবা আছে বা মাছ চাষ করার জন্য অনুরূপ কোন উৎসে অংশগ্রহণের সুযোগ আছে, তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। উন্নয়ন প্রচেষ্টার মূল স্রোতধারায় নারীদের সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ২৫.৩০ শতাংশ সুফলভোগী নারীদের মাঝ থেকে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। অধিদপ্তরের এ নীতিমালা অনুযাীয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারকৃত ও সম্প্রসারণকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে অধিক সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া অত্র এলাকায় কুচিয়া চাষের মাধ্যমে উপজাতি গোষ্ঠীর নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে করে অধিক সংখ্যক নারী আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে হেক্টর প্রতি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্প সমাপ্তের পর পুকুরে মাছের বর্তমান উৎপাদন ৩.৩ মে.টন/হেক্টর হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৫ মে.টন/হেক্টর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুফলভোগী যেমন পুকুর মালিক, জেলে, ভূমিহীন জনগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট উপকারভোগী যাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে মাছ চাষের কলাকৌশল আয়ত্তের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় সক্ষম হবেন; ফলে এ অঞ্চলে দারিদ্র হ্রাসকরণ সম্ভব হবে। এআইজি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অভয়াশ্রম স্থাপিত এলাকা দরিদ্র সুফলভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। জীবিকার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা প্রদান করা হবে। ফলে ঐ সকল প্রযুক্তি বেকার যুবক/সুফলভোগীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুল হাসান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল মৎস্য সেক্টরের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশে মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে করে গুণগত মানসম্পন্ন মাছের পোনার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এ অঞ্চলে দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।