কক্সবাজার প্রতিনিধি : পথ হারিয়ে লোকালয় থেকে বন্যহাতিটি অবশেষে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনলো বনকর্মীরা। সূত্র জানায়, খাবারের খোঁজে ৫ থেকে ৬ টি বন্যহাতির পাল লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এরমধ্যে একটি হাতি দলচ্যুত হয়ে পড়ে। বিষয়টি উখিয়া উপজেলা বন বিভাগের নজরে আসলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপজেলা প্রশাসন এবং বনকর্মীদের দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া নিরাপদ আবাসস্থল বনে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ২৫ মে (মঙ্গলবার) উখিয়ার থাইংখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে দলছুট এ বুনো হাতিটি আটকা পড়ে। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বন বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মারমুখী রোহিঙ্গাদের কবল হতে হাতিটিকে রাত ৮টার দিকে নিরাপদে বনে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৫ মে (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে থাইংখালী গাইনিখোলা এলাকায় ১৩নং তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে পাহাড়ে হাতিটি দেখতে পায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা। সকালের দিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত রোহিঙ্গার সাথে বিভিন্ন এলাকা হতে উৎসুক লোকজন হাতি দেখতে ভিড় করে। সকাল ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিম উদ্দীন আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তাজ উদ্দিন, বন রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম, অগ্নিনির্বাপক দলসহ সরকারী লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এর পূর্বে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে দলছুট বুনোহাতির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যে বন্যহাতির পাল খাবারের খোঁজে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। অনেক সময় এসব বন্যহাতির পালকে বিরক্ত করতে দেখা যায়। কিন্তু বন বিভাগের কর্মীরা সর্বদা সচেষ্ট ও সজাগ থাকেন। যার কারণে বন্যহাতি দলচ্যুত হয়ে পড়লে বনকর্মীরা অনেক কষ্ট, পরিশ্রম এবং কৌশল প্রয়োগ করে বন্যহাতিদের নিরাপদ আবাসস্থলে পাঠানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তা সফলতার দিকে ধাবিত হয়। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম বলেন, বন্যহাতিটি পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসার খবর বনকর্মীদের নজরে আসলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পর নিরাপদ আবাসস্থলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বন্যহাতির পাল থেকে হাতিটি দলচ্যুত হয়ে পড়ে।

