ঢাকাThursday , 27 May 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বনের হাতি ফিরে গেল বনে

Link Copied!

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটিতে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বন্যহাতি বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসায় সেরে ওঠে বনের হাতি ফিরে গেল বনে।
সুস্থ হওয়ার পর হাতিটিকে পাঠানো হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাতিটি অসুস্থ হয় বলে জানিয়েছে বন বিভাগের সূত্র।
জানা গেছে, শনিবার জেলার লংগদু উপজেলার ভাসান্যা আদাম ইউনিয়নের খাগড়াছড়ি মৌজার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একদল বন্যহাতি। পরদিন রোববার সকালের দিকে অন্য হাতিগুলো চলে গেলেও লোকালয়ে একটি আমগাছের নিচে মাটিতে লুটিয়ে শুয়ে থাকে একটি হাতি।
পাশের বিডিআর ক্যাম্পের নিকটবর্তী মাটিতে শুয়ে থাকা হাতিটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকেন গ্রামের লোকজন। পরে খবর দেওয়া হয় বন বিভাগের লোকজনকে। এতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির অসুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত হন বন বিভাগের লোকজন।
এরপর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল গিয়ে হাতিটির চিকিৎসা দেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কাচালং স্টেশন কর্মকর্তা হাসান তারিক জানান, খবর পেয়ে নিকটবর্তী বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। তখন গতিবিধি লক্ষ্য করে দেখা যায়, হাতিটি কিছুক্ষণ পরপর উঠে দাঁড়ায়। একটু পায়চারী করে আবার শুয়ে পড়ে। মুখ দিয়ে ঘনঘন হা করে ছটফট করে। পায়ে আঘাতের কারণে ফুলে যাওয়ায় হাতিটির অসুস্থতা নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর বন বিভাগের লোকজন হাতিটার গতিবিধি লক্ষ্য করে রাখেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, আমরা সোমবার সকালে খবর দিলে পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দুলহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মুস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিবেকানন্দ তার টিমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তখন হাতিটি আগের জায়গা থেকে বনের একটু ভেতরে অবস্থান করছিল। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে হাতিটির কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল হাতিটা অসুস্থ।
এরপর প্রধান বন সংরক্ষকসহ চট্টগ্রামের বন্যপ্রাণী বিভাগের অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসার জন্য ইনজেকশন পুশ করে হাতিটিকে অবশ করা হয়। দুবার ইনজেকশন পুশ করার পর হাতিটির শরীর নিস্তেজ হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। এ অবস্থায় দুই পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে হাতিটিকে শোয়ানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু সম্ভব হয়নি। পরে দাঁড়ানো অবস্থায় যাবতীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাতিটির সামনের ডান পায়ের হাঁটুতে, পিঠে ও বুকে তিনটি গুলির ক্ষত দেখা যায়। ক্ষতগুলোতে ড্রেসিং করে দেওয়া হয়। ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতিটি ধীরে ধীরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হওয়ায় হাতিটি গভীর জঙ্গলে চলে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ভাসান্যা আদাম সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চলে যেতে সাহায্য করা হয় হাতিটিকে।
চিকিৎসা দেওয়ার সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা উপস্থিত উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন।